রোগীদের সঙ্গে আন্তরিক, সম্মানজনক ও মানবিক আচরণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, একজন চিকিৎসকের হাসিমুখে কথা বলা একজন রোগীকে অর্ধেক সুস্থ করে দিতে পারে। তাই ওষুধের পাশাপাশি রোগীর সঙ্গে ভালো আচরণও চিকিৎসার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
শনিবার ঢাকা মেডিকেল কলেজের ৮০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে কলেজ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ‘বাংলাদেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার আধুনিকায়নে ডিএমসিয়ানদের ভাবনা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, চিকিৎসা শুধু রোগ নিরাময়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এর সঙ্গে মানবিকতা, নৈতিকতা এবং সেবার মানসিকতার গভীর সম্পর্ক রয়েছে। মানুষ জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময়ে অসুস্থ হয়ে পড়লে আল্লাহর পর সবচেয়ে বেশি ভরসা করেন একজন চিকিৎসকের ওপর। সেই আস্থার প্রতিদান দিতে চিকিৎসকদের দায়িত্বশীল ও মানবিক হতে হবে।
তিনি বলেন, চিকিৎসকদের মধ্যে মেডিকেল এথিকস ও নৈতিক মূল্যবোধ আরও শক্তিশালী করতে হবে। রোগীদের ভালোবাসা, সহানুভূতি ও সম্মান দিয়ে চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করলে তা সুস্থতায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখে।
করোনা মহামারি, হাম পরিস্থিতি এবং সাম্প্রতিক বন্যায় চিকিৎসকদের ভূমিকার প্রশংসা করে মন্ত্রী বলেন, ছুটি উপেক্ষা করে তারা দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে চিকিৎসাসেবা দিয়েছেন। বিশেষ করে চট্টগ্রামের বন্যাকবলিত এলাকায় গভীর রাত পর্যন্ত চিকিৎসকদের দায়িত্ব পালন পেশার প্রতি তাদের অঙ্গীকারেরই প্রমাণ।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার স্বাস্থ্যখাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। চিকিৎসা শিক্ষা, গবেষণা এবং আধুনিক চিকিৎসাসেবার জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও যন্ত্রপাতি সরবরাহ করা হচ্ছে। কমিউনিটি ক্লিনিক, উপজেলা হাসপাতাল ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্রগুলোকে আরও আধুনিক করতে আগামী মাস থেকেই উন্নয়ন কার্যক্রম শুরু হবে।
তিনি বলেন, রাজধানী ও গ্রামাঞ্চলের স্বাস্থ্যসেবার বৈষম্য দূর করে দেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য সমমানের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য। ঢাকা শহরের মানুষের মতো গ্রামের মানুষও সমান মানের স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার অধিকার রাখে।
অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে সেবার মান আরও শক্তিশালী করতে হবে। কার্যকর রেফারাল ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চিকিৎসকদের উপজেলা পর্যায়ে দায়িত্ব পালন নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যথায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওপর রোগীর অতিরিক্ত চাপ কমানো সম্ভব হবে না।
ঢাকা মেডিকেল কলেজের উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মুসাররাত সুলতানার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর এবং চিকিৎসক সংগঠনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
আরএস-রাসেল
No comments yet. Be the first to comment!