স্বাস্থ্য

বন্যাকবলিত ১১ জেলার স্বাস্থ্যকর্মীদের ছুটি বাতিল: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

আপডেট: জুলা ১৪, ২০২৬ : ০৪:৫০ এএম
বন্যাকবলিত ১১ জেলার স্বাস্থ্যকর্মীদের ছুটি বাতিল: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

বন্যাকবলিত ১১ জেলায় স্বাস্থ্যসেবা অব্যাহত রাখতে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সব ধরনের ছুটি বাতিল করেছে সরকার। একই সঙ্গে দুর্গত এলাকায় জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে মেডিকেল টিম, পর্যাপ্ত ওষুধ, স্যালাইন, অ্যান্টিভেনম ও পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট মজুত রাখা হয়েছে।

সোমবার সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বন্যাকবলিত এলাকার স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, টানা ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে দেশের কয়েকটি জেলায় সৃষ্ট বন্যা পরিস্থিতি স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছে। কোনো রোগী যেন চিকিৎসাবঞ্চিত না হন, সে জন্য ঝুঁকিপূর্ণ জেলাগুলোতে স্বাস্থ্যকর্মীদের মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকে অতিরিক্ত মেডিকেল টিমও পাঠানো হবে।

তিনি জানান, বর্তমানে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, কুমিল্লা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ ১১ জেলায় বিশেষ স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। প্রতিটি জেলার স্বাস্থ্য পরিস্থিতি তদারকির জন্য একজন করে জ্যেষ্ঠ চিকিৎসককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ সার্বক্ষণিক তথ্য সংগ্রহ ও সমন্বয়ের কাজ করছে।

মন্ত্রী বলেন, জেলা প্রশাসন, সিভিল সার্জন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে বিশেষ করে গর্ভবতী নারী, শিশু এবং দুর্গম এলাকার মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বন্যাকবলিত এলাকায় সাপের উপদ্রব বাড়ার আশঙ্কার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, অ্যান্টিভেনমের পর্যাপ্ত মজুত রাখা হয়েছে। সাপে কামড়ালে ওঝার কাছে না গিয়ে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, দূষিত পানির কারণে ডায়রিয়া, কলেরা ও অন্যান্য পানিবাহিত রোগের ঝুঁকি মোকাবিলায় পর্যাপ্ত স্যালাইন, ওষুধ ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসামগ্রী প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্যসচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী জানান, সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী বন্যাকবলিত এলাকায় সাপে কাটা ৯৫ জন রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন এবং সবাই সুস্থ আছেন। বর্তমানে এক হাজারের বেশি ভায়াল অ্যান্টিভেনম কেন্দ্রীয়ভাবে এবং জেলা পর্যায়ে ২১ হাজার ভায়াল সংরক্ষিত রয়েছে। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে আরও ২৫ হাজার ভায়াল যুক্ত হবে বলে তিনি জানান।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা কল সেন্টার ১৬২৬৩, স্বাস্থ্য বাতায়ন এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জরুরি নিয়ন্ত্রণ কক্ষের মাধ্যমে বন্যাকবলিত এলাকার স্বাস্থ্যসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে ডেঙ্গুসহ অন্যান্য সংক্রামক রোগের পরিস্থিতিও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!