দেশের যেসব এলাকার শিশু এখনো হাম-রুবেলার টিকার আওতায় আসেনি, তাদের সবাইকে টিকা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। পাশাপাশি হামের চিকিৎসা নির্দেশিকা ব্যাপকভাবে ব্যবহারের জন্য চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
গত রোববার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত টিকাবিষয়ক আন্তসংস্থা সমন্বয় কমিটির (আইসিসি) সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন স্বাস্থ্যসচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী।
সভা শেষে স্বাস্থ্যসচিব বলেন, হাম পরিস্থিতি নিয়ে আইসিসির সভায় সংশ্লিষ্ট প্রায় সব পক্ষের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা বর্তমান পরিস্থিতি ও করণীয় নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
কামরুজ্জামান চৌধুরী বলেন, কিছু এলাকায় ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী শিশুদের সবাই এখনো হাম-রুবেলার টিকা পায়নি। এসব এলাকার সব শিশুকে টিকার আওতায় আনা হবে। বর্তমানে সরকারের হাতে আরও ১৬ লাখ টিকা রয়েছে।
আক্রান্তদের বড় অংশ পাঁচ বছরের কম বয়সী
আইসিসির সভায় হামে আক্রান্ত শিশুদের বয়সভিত্তিক তথ্যও তুলে ধরা হয়। এতে দেখা যায়, আক্রান্তদের ১০ শতাংশের বয়স ছয় মাসের কম। ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশু আক্রান্ত হয়েছে ৭৪ শতাংশ। ৫ থেকে ১০ বছর বয়সী আক্রান্তের হার ১৪ শতাংশ। বাকি ২ শতাংশের বয়স ১০ থেকে ১৪ বছর বা তার বেশি।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের গতকাল সোমবারের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত ৫ এপ্রিল থেকে ১৭ আগস্ট পর্যন্ত ১ কোটি ৯৩ লাখ ৬৩ হাজার ৯১২ শিশুকে হামের এক ডোজ টিকা দেওয়া হয়েছে। এসব শিশুর বয়স ৬ মাস থেকে ৫ বছর।
হামে মৃত্যু ৯১৪
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮১৫।
এ ছাড়া নিশ্চিত হামে মারা গেছে ৯৯ জন। সব মিলিয়ে চলতি বছরে হামে মৃত্যুর সংখ্যা ৯১৪।
মৃতদের বড় একটি অংশের বয়স পাঁচ বছরের কম। তাদের মধ্যে অনেকেই কোনো টিকা পায়নি বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে টিকাবঞ্চিত শিশুদের দ্রুত টিকার আওতায় আনার পাশাপাশি হামের চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর করতে চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আরএস-রাসেল
No comments yet. Be the first to comment!