আজ ১ জুলাই দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ১০৬ বছরে পদার্পণ করেছে। জ্ঞানচর্চা, মুক্তবুদ্ধি, ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ এবং গণতান্ত্রিক আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা এ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির আয়োজন করেছে।
১৯২১ সালের ১ জুলাই পূর্ববঙ্গের মানুষের উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণের লক্ষ্য নিয়ে ঢাকার রমনায় প্রায় ৬০০ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। যাত্রার শুরুতে তিনটি অনুষদ, ১২টি বিভাগ, ৬০ জন শিক্ষক এবং ৮৪৭ জন শিক্ষার্থী নিয়ে কার্যক্রম শুরু হলেও বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে রয়েছে ১৩টি অনুষদ, ৮৪টি বিভাগ, ১৩টি ইনস্টিটিউট, ৫৭টি গবেষণা ব্যুরো ও কেন্দ্র, ১৯টি আবাসিক হল এবং চারটি হোস্টেল। শিক্ষার্থী সংখ্যা ৩৭ হাজারের বেশি।
প্রতিষ্ঠার পর থেকে ভাষা আন্দোলন, মহান মুক্তিযুদ্ধ, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনসহ দেশের বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। দেশের রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের অসংখ্য নেতৃত্ব তৈরি হয়েছে এ প্রতিষ্ঠান থেকে।
তবে দীর্ঘদিন ধরে আবাসন সংকট, অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা, গবেষণায় স্বল্প বরাদ্দ এবং সক্ষমতার তুলনায় অতিরিক্ত শিক্ষার্থী ভর্তির মতো নানা চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়টি। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজেট ধরা হয়েছে ১ হাজার ৩৩ কোটি ২১ লাখ টাকা। এর মধ্যে গবেষণা খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ২১ কোটি টাকা, যা মোট বাজেটের প্রায় ২ দশমিক ৩ শতাংশেরও কম।
এসব সীমাবদ্ধতার মধ্যেও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অগ্রগতি ধরে রেখেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। সম্প্রতি প্রকাশিত কিউএস ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র্যাঙ্কিং ২০২৭-এ টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বের সেরা ৬০০ বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে স্থান পেয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের লক্ষ্যে কর্তৃপক্ষ ‘ঢাকা ইউনিভার্সিটি একাডেমিক প্ল্যান (ডিইউএপি) ২০২৬-২০৪৬’ নামে ২০ বছর মেয়াদি একটি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। পাঁচ ধাপে বাস্তবায়নযোগ্য এ পরিকল্পনার মাধ্যমে শিক্ষা, গবেষণা ও প্রশাসনে সংস্কার এনে ২০৪৬ সালের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়টিকে আন্তর্জাতিক মানের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী, গবেষক, সাবেক শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণার মানোন্নয়নে সবার সহযোগিতা কামনা করেন।
এবারের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর প্রতিপাদ্য ‘গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও উচ্চশিক্ষায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়’। এ উপলক্ষে সকালে স্মৃতি চিরন্তন চত্বর থেকে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হবে। পরে ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) প্রাঙ্গণে জাতীয় ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা উত্তোলন, কেক কাটা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে পৃথক বাণীতে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সবাইকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। রাষ্ট্রপতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে দেশের গৌরবময় ইতিহাস ও ঐতিহ্যের ধারক হিসেবে উল্লেখ করেন। আর প্রধানমন্ত্রী চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় উচ্চশিক্ষাকে আরও আধুনিক ও সময়োপযোগী করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
আরএস-রাসেল
No comments yet. Be the first to comment!