শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তাৎক্ষণিক উদ্যোগে চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন নাটোর ও বগুড়ার মোট ১৫ শিক্ষার্থী। ফরম পূরণের অর্থ আত্মসাৎ এবং প্রশাসনিক ত্রুটির কারণে প্রথম দিনের পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারা এসব শিক্ষার্থী শনিবার থেকে নিয়মিত পরীক্ষার্থী হিসেবে বাকি পরীক্ষাগুলো দিতে পারবেন।
শুক্রবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। মন্ত্রণালয় জানায়, নাটোরের লালপুর উপজেলার আব্দুলপুর সরকারি কলেজের আট শিক্ষার্থী ফরম পূরণের জন্য টাকা জমা দিলেও কলেজের অফিস সহকারী অমিত কুমার সরকার সেই অর্থ শিক্ষা বোর্ডে জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করেন। ফলে তাঁদের প্রবেশপত্র ইস্যু হয়নি এবং বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত বাংলা প্রথমপত্র পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি।
বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলে জরুরি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। পরে বিশেষ ব্যবস্থায় ওই আট শিক্ষার্থীর ফরম পূরণ ও প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয়। তাঁরা শনিবার থেকে পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত অফিস সহকারী অমিত কুমার সরকারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁর বিরুদ্ধে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। পাশাপাশি ঘটনাটি তদন্তে কলেজের রসায়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আল মাহমুদকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
একইভাবে বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে রেজিস্ট্রেশন নম্বরের ভুল এবং ফরম পূরণসংক্রান্ত জটিলতায় পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারা সাত শিক্ষার্থীর বিষয়েও শিক্ষা মন্ত্রণালয় ব্যবস্থা নেয়। মন্ত্রীর নির্দেশে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ড তাদের প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করে। ফলে তারাও শনিবার থেকে নিয়মিত পরীক্ষার্থী হিসেবে পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শিক্ষার্থীদের ক্ষতির জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আরএস-রাসেল
No comments yet. Be the first to comment!