আগামী শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবই মুদ্রণে প্রয়োজনীয় কাগজ সময়মতো এবং বাজারদরে সরবরাহের আশ্বাস দিয়েছেন দেশের পেপার মিল মালিকেরা। কাগজের কোনো কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হবে না বলেও তারা প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
সোমবার সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে দেশের শীর্ষস্থানীয় পেপার মিল মালিক ও প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
মন্ত্রী বলেন, অতীতে পাঠ্যবই মুদ্রণের শেষ সময়ে প্রেস মালিকদের কাছ থেকে প্রায়ই কাগজ সংকট ও দাম বৃদ্ধির অভিযোগ পাওয়া যেত। কখনো সময়মতো কাগজ সরবরাহ না হওয়া, আবার কখনো কৃত্রিম সংকট তৈরি করে অতিরিক্ত মূল্য দাবি করার ঘটনাও ঘটেছে। এসব সমস্যা দূর করতে এবার আগেভাগেই পেপার মিল মালিকদের সঙ্গে সমন্বয় করা হয়েছে।
ড. মিলন বলেন, “পেপার মিল মালিকরা আমাদের আশ্বস্ত করেছেন যে বাজারে কাগজের দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়ানো হবে না এবং নির্ধারিত মূল্যে প্রয়োজনীয় কাগজ সরবরাহ করা হবে। এতে পাঠ্যবই মুদ্রণ কার্যক্রম নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করা সহজ হবে।”
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনা অনুযায়ী নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরুর আগেই শিক্ষার্থীদের হাতে মানসম্মত বই পৌঁছে দিতে সরকার বদ্ধপরিকর। এ লক্ষ্যে দেশীয় মানসম্পন্ন কাগজ ব্যবহার নিশ্চিত করার পাশাপাশি মুদ্রণ প্রক্রিয়াকে আরও সুশৃঙ্খল করতে আইনি কাঠামোর আওতায় চুক্তি করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
শিক্ষামন্ত্রী জানান, আগামী শিক্ষাবর্ষে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) মাধ্যমে প্রায় ৩১ কোটি পাঠ্যবই ছাপানো হবে। এর জন্য প্রয়োজন হবে প্রায় ৮০ হাজার মেট্রিক টন কাগজ।
তিনি বলেন, দেশের পেপার মিলগুলোর বর্তমান উৎপাদন সক্ষমতা বিবেচনায় আগামী দুই মাসের মধ্যেই এই পরিমাণ কাগজ সরবরাহ করা সম্ভব। বৈঠকে মিল মালিকরা প্রতি মাসে অন্তত ৫৫ হাজার মেট্রিক টন মানসম্মত কাগজ সরবরাহের সক্ষমতার কথা জানিয়েছেন।
বৈঠকে বিভিন্ন পেপার মিলের প্রতিনিধিরা কাগজের গুণগত মান বজায় রাখার পাশাপাশি সময়মতো সরবরাহ নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেন। তারা পাঠ্যবই মুদ্রণ কার্যক্রম সফল করতে সরকারের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করার আগ্রহও প্রকাশ করেন।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, পেপার মিল মালিকদের সঙ্গে আলোচনার পরবর্তী ধাপে খুব শিগগিরই প্রেস মালিকদের সঙ্গে বৈঠক করা হবে, যাতে বই মুদ্রণ ও সরবরাহ কার্যক্রমে কোনো ধরনের জটিলতা না থাকে।
বৈঠকে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক, এনসিটিবির চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোহাম্মদ ফখরুল মাওলাসহ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
আরএস-রাসেল
No comments yet. Be the first to comment!