শিক্ষা

‘বাংলাদেশে বিনিয়োগ মানেই ৩০০ কোটির আঞ্চলিক বাজারে প্রবেশের সুযোগ’: ববি হাজ্জাজ

আপডেট: আগ ০৪, ২০২৬ : ০৫:৫৭ এএম
‘বাংলাদেশে বিনিয়োগ মানেই ৩০০ কোটির আঞ্চলিক বাজারে প্রবেশের সুযোগ’: ববি হাজ্জাজ

দক্ষিণ এশিয়া ও আসিয়ান অঞ্চলের সংযোগস্থলে বাংলাদেশের কৌশলগত অবস্থানকে জাপানি বিনিয়োগকারীদের জন্য বড় সুযোগ হিসেবে তুলে ধরেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশে বিনিয়োগের মাধ্যমে প্রায় ৩০০ কোটিরও বেশি ভোক্তার একটি বৃহৎ আঞ্চলিক বাজারে প্রবেশের সুযোগ তৈরি হয়।

মঙ্গলবার জাপানের ওসাকায় জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশন (জেট্রো), জাপানে বাংলাদেশ দূতাবাস এবং ওসাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি আয়োজিত ‘বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট প্রোমোশন সেমিনার’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ববি হাজ্জাজ বলেন, বাংলাদেশ শুধু সম্ভাবনাময় বিনিয়োগ গন্তব্য নয়, বরং দক্ষিণ এশিয়া ও আসিয়ানের মধ্যে একটি কৌশলগত অর্থনৈতিক সেতুবন্ধন। বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) এবং জাপানের জন্য বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে। এসব উদ্যোগ জাপানি বিনিয়োগকারীদের জন্য আরও অনুকূল পরিবেশ তৈরি করবে।

জাপানের উন্নয়ন অভিজ্ঞতার প্রসঙ্গ টেনে প্রতিমন্ত্রী বলেন, মেইজি পুনর্গঠন শিক্ষা, প্রযুক্তি, শিল্পায়ন ও দূরদর্শী নেতৃত্বের মাধ্যমে একটি জাতির রূপান্তরের অনন্য উদাহরণ। বাংলাদেশও সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে জ্ঞান, প্রযুক্তি, উদ্ভাবন ও দক্ষ মানবসম্পদনির্ভর অর্থনীতি গড়ে তুলতে চায়।

তিনি জানান, বর্তমানে বাংলাদেশের অর্থনীতির আকার ৫০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মধ্যেও প্রবৃদ্ধি ৪ দশমিক ৫ শতাংশের ওপরে রয়েছে। সরকারের লক্ষ্য, ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করা।

ববি হাজ্জাজ বলেন, দেশের ৭ কোটির বেশি কর্মক্ষম তরুণ জনগোষ্ঠী বাংলাদেশের অন্যতম বড় শক্তি। মাথাপিছু আয় ৩ হাজার মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ায় অভ্যন্তরীণ বাজার ও মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়ছে, যা বিদেশি বিনিয়োগের নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে।

তিনি আরও জানান, বর্তমানে বাংলাদেশ-জাপান দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ৩ দশমিক ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। আগামী কয়েক বছরের মধ্যে তা ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

সেমিনারে জাপানি বিনিয়োগের সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে যন্ত্রপাতি ও লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, অটোমোবাইল ও বৈদ্যুতিক যানবাহনের যন্ত্রাংশ, ইলেকট্রনিকস, ফার্মাসিউটিক্যালস, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বন্দর ও লজিস্টিকস, রোবটিকস, শিক্ষা প্রযুক্তি এবং দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নের কথা তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে জাপানে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. দাউদ আলী, জেট্রো ও ওসাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ জাপানের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শতাধিক ব্যবসায়ী ও শিল্পোদ্যোক্তা উপস্থিত ছিলেন।

আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!