এক বছর আগে ফুটবল বিশ্লেষক গ্যারি নেভিলের কটাক্ষ ছিল বেশ আলোচিত। টানা পাঁচ মৌসুম বড় কোনো ট্রফি না জিতেও মিকেল আর্তেতার আর্সেনাল চাকরি টিকিয়ে রাখাই তার সবচেয়ে বড় অর্জন—এমন মন্তব্যে তখন অনেকেই একমতও হয়েছিলেন। তবে সময়ের সঙ্গে সেই সমালোচনার জবাব দিয়েছেন স্প্যানিশ এই কোচ।
বোর্নমাউথের মাঠে ম্যানচেস্টার সিটির ড্রয়ের পর আর্সেনালের প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা নিশ্চিত হয়, যা আর্তেতার জন্য হয়ে ওঠে এক অনন্য সাফল্যের প্রতীক। শুধু ট্রফি জয় নয়, দীর্ঘ পরিকল্পনা, ধৈর্য ও কঠিন বাস্তবতাকে সামলে নেওয়ার গল্পও হয়ে ওঠে এটি।
২০১৯ সালের ডিসেম্বরে আর্সেনালের দায়িত্ব নেওয়ার সময় ক্লাবটির অবস্থা ছিল সংকটাপন্ন। উনাই এমেরির বিদায়ের পর দলের পারফরম্যান্সে স্থবিরতা নেমে আসে, গ্যালারিতেও দেখা যেত ফাঁকা আসন। সে সময় আর্তেতা নিজেও বলেছিলেন, এই ক্লাবে কোনো প্রজেক্ট টিকে থাকা সহজ নয়।
তবে সময়ের সঙ্গে ধীরে ধীরে দল গড়ে তোলেন আর্তেতা। কঠোর শৃঙ্খলা, নতুন কৌশল এবং খেলোয়াড়দের মধ্যে আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনার মাধ্যমে আর্সেনালকে আবারও শিরোপা প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন তিনি।
আর্সেনালের ‘ইনভিন্সিবল’ যুগের নায়ক থিয়েরি অঁরিও আর্তেতার কৌশল নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন। তার মতে, ব্যক্তিগতভাবে কোচিং দর্শন পছন্দ না হলেও দলের সাফল্যকে অস্বীকার করা যায় না।
অঁরি বলেন, “দীর্ঘদিন আমাদের নিয়ে বলা হতো আমরা চাপ সামলাতে পারি না। লিড ধরে রাখতে পারি না। আজ দল সেটাই বদলে দিয়েছে। পছন্দ না হলেও এই সাফল্যকে আমি সম্মান করি।”
সমালোচনা ও প্রশ্নের মধ্য দিয়েই গড়ে ওঠা এই সাফল্য এখন আর্তেতার ক্যারিয়ারে নতুন অধ্যায় যোগ করেছে বলেই মনে করছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা।
আরএস-রাসেল
No comments yet. Be the first to comment!