ইউরোপের মাটিতে প্রথমবার ইউরোপীয় দলের বিপক্ষে জয় পেল বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল। সান মারিনোকে ২–১ গোলে হারিয়ে ঐতিহাসিক এই জয় তুলে নেয় লাল–সবুজের প্রতিনিধিরা।
আজ শনিবার (৬ জুন ২০২৬) সান মারিনো স্টেডিয়ামে ম্যাচ শেষে অস্ট্রিয়ান রেফারি ওল্টারম্যানের শেষ বাঁশির পরই শুরু হয় বাংলাদেশের উদযাপন। ডাগআউট থেকে ছুটে এসে মাঠে নেমে পড়েন ফুটবলার ও কোচিং স্টাফরা। গ্যালারিতে থাকা প্রবাসী বাংলাদেশিরাও উচ্ছ্বাসে ভাসেন।
ম্যাচের নায়ক ডিফেন্ডার তপু বর্মণ। তিনি দুই অর্ধে একটি করে গোল করেন—দুটিই হেডে। দ্বিতীয়ার্ধে জামাল ভূঁইয়া মাঠ ছাড়ার পর তিনি অধিনায়কের আর্মব্যান্ডও পরেন।
খেলার শুরুতে কিছুটা চাপে থাকলেও ১৯ মিনিটে এগিয়ে যায় বাংলাদেশ। হামজা চৌধুরীর ফ্রি কিক থেকে শেখ মোরসালিনের ক্রসে হেডে গোল করেন তপু বর্মণ।
তবে এই লিড বেশিক্ষণ ধরে রাখতে পারেনি বাংলাদেশ। ১৪ মিনিট পর রক্ষণভাগের ভুলে সমতায় ফেরে সান মারিনো। নিকোলাসের শট বাংলাদেশের গোলরক্ষক মিতুল মারমার গায়ে লেগে জালে প্রবেশ করে।
দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচে গতি বাড়ায় বাংলাদেশ। কোচ হ্যাভিয়ের কাবরেরা একাধিক পরিবর্তন আনেন। সামিত সোম ও জায়ান আহমেদের আগমনে আক্রমণে গতি আসে। তবে ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ নষ্ট করেন সাদ উদ্দিন ও ফয়সাল আহমেদ ফাহিম।
নির্ধারিত সময়ের শেষ দিকে ৮৬ মিনিটে আসে জয়সূচক গোল। হামজা চৌধুরীর ফ্রি কিক থেকে বিশ্বনাথ ঘোষের ভলি তপু বর্মণের গায়ে লেগে জালে প্রবেশ করে।
ইনজুরি সময়ের শেষ মুহূর্তে সান মারিনো সমতার চেষ্টা করলেও বাংলাদেশের রক্ষণভাগ দৃঢ় থাকে। শেষ পর্যন্ত ২–১ গোলের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ।
ইউরোপের ক্ষুদ্র দেশ সান মারিনো হলেও এটি ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের নিচের সারির দলগুলোর একটি। তবুও ইউরোপের মাটিতে ইউরোপীয় দলের বিপক্ষে বাংলাদেশের এই প্রথম জয়কে ঘিরে উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে ফুটবল অঙ্গনে।
গ্যালারিতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের উপস্থিতি ম্যাচটিকে প্রায় ‘হোম অ্যাডভান্টেজ’ এনে দেয় বলেও দেখা গেছে।
আরএস-রাসেল
No comments yet. Be the first to comment!