সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপে টানা তৃতীয়বারের মতো শিরোপা জয়ের স্বপ্ন নিয়ে মাঠে নেমেছিল বাংলাদেশ। তবে ফাইনালে স্বাগতিক ভারত নারী জাতীয় ফুটবল দল–এর বাধা আর পেরোনো হলো না। গোয়ায় অনুষ্ঠিত শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে ৩–১ গোলে হেরে রানার্সআপ হয় বাংলাদেশ নারী জাতীয় ফুটবল দল।
ফলে আগের দুই আসরের চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশের হ্যাটট্রিক শিরোপা জয়ের স্বপ্ন অপূর্ণই থেকে গেল। একই সঙ্গে টুর্নামেন্টে ভারতের বিপক্ষে দ্বিতীয়বারের মতো হারল আফঈদা-ঋতুপর্ণারা। এর আগে গ্রুপ পর্বেও বাংলাদেশ ৩–০ গোলে পরাজিত হয়েছিল স্বাগতিকদের কাছে।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে জমে ওঠে লড়াই। ১২ মিনিটে এগিয়ে যাওয়ার দারুণ সুযোগ পেয়েছিলেন তহুরা খাতুন। ভারতীয় গোলরক্ষককে একা পেয়েও লক্ষ্যভেদ করতে পারেননি তিনি।
এরপর ধীরে ধীরে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় ভারত। ৩০ মিনিটে আভিকা সিংহের হেড ক্রসবারের ওপর দিয়ে চলে যায়। কিছুক্ষণ পর মনিশার জোরালো শট দারুণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন বাংলাদেশের গোলরক্ষক মিলি আক্তার।
৪২ মিনিটে পিয়ারি সাহার গোলে এগিয়ে যায় ভারত। মধ্যমাঠ থেকে পাওয়া বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে লফটেড শটে বাংলাদেশের জালে বল জড়ান তিনি। তবে পিছিয়ে পড়ার পর দ্রুতই ম্যাচে ফেরে বাংলাদেশ। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে দুর্দান্ত এক গোলে সমতা ফেরান ঋতুপর্ণা চাকমা। তার গোলে ১–১ সমতায় বিরতিতে যায় দুই দল।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই আবারও ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। ৪৯ মিনিটে কর্নার থেকে ভেসে আসা বলে হেড করে ভারতকে এগিয়ে দেন সানফিদা। বাংলাদেশের রক্ষণভাগ তাকে আটকাতে ব্যর্থ হয়। গোলরক্ষক মিলি আক্তার বল ঠেকানোর চেষ্টা করলেও তা পোস্টে লেগে জালে ঢুকে যায়। এরপর ম্যাচের বড় সময়জুড়ে চাপের মুখে ছিল বাংলাদেশ। একের পর এক আক্রমণে ভারতীয় ফুটবলাররা বাংলাদেশের রক্ষণভাগকে ব্যতিব্যস্ত করে রাখে।
৮২ মিনিটে আসে ম্যাচের শেষ আঘাত। ডিফেন্ডার আফঈদা খন্দকার বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়ের গায়ে লাগিয়ে ফেলেন। সেখান থেকে বল পেয়ে লিন্ডা কম সহজেই জালে পাঠালে ৩–১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ভারত। এরপর আর ম্যাচে ফেরার সুযোগ তৈরি করতে পারেনি বাংলাদেশ।
শেষ পর্যন্ত ৩–১ গোলের জয় নিয়ে শিরোপা উঁচিয়ে ধরে ভারত। আর বাংলাদেশের টানা দুই আসরের আধিপত্যের অবসান ঘটে এবারের ফাইনালেই।
তবে শিরোপা হাতছাড়া হলেও পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে লড়াকু পারফরম্যান্সে নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছে বাংলাদেশের মেয়েরা। ভবিষ্যতের জন্য নতুন প্রত্যাশাও জাগিয়ে রেখেছে তারা।
আরএস-রাসেল
No comments yet. Be the first to comment!