ওয়ানডে সিরিজ জয়ের সুখস্মৃতি ধরে রাখতে পারল না বাংলাদেশ। টি–টোয়েন্টি সিরিজে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তিন ম্যাচেই হেরে হোয়াইটওয়াশ হয়েছে স্বাগতিকরা। সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে ব্যাটিং বিপর্যয়ের পর ৭ উইকেটের সহজ জয় তুলে নিয়েছে সফরকারীরা।
রোববার চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে আগে ব্যাট করে বাংলাদেশ ৮ উইকেটে তোলে ১০৯ রান। জবাবে ৯ ওভার হাতে রেখেই লক্ষ্য ছুঁয়ে ফেলে অস্ট্রেলিয়া।
এই নিয়ে টি–টোয়েন্টি ইতিহাসে অষ্টমবারের মতো তিন ম্যাচের দ্বিপাক্ষিক সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হলো বাংলাদেশ। এর আগে নিউজিল্যান্ড ও পাকিস্তানের কাছে দুইবার করে এবং আফগানিস্তান, ভারত ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে একবার করে এমন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছিল দলটি।
টস জিতে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই ধুঁকেছে বাংলাদেশ। ইনিংসের প্রথম পাঁচ ওভারে মাত্র ১১ রান তুলতেই হারায় ৩ উইকেট। দুই ওপেনার তানজিদ হাসান ও সাইফ হাসান দ্রুত ফিরে যান। তিন নম্বরে নেমে পারভেজ হোসেন ইমনও ব্যর্থ হন।
চতুর্থ উইকেটে তাওহিদ হৃদয় ও নুরুল হাসান কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করলেও তা দীর্ঘ হয়নি। এরপর শামীম হোসেন, রিশাদ হোসেন ও নাসুম আহমেদের বিদায়ে আরও চাপে পড়ে বাংলাদেশ। এক প্রান্ত আগলে রেখে লড়াই চালিয়ে যান ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক হৃদয়। সতীর্থদের যাওয়া–আসার মধ্যে ৪১ বলে তুলে নেন ক্যারিয়ারের সপ্তম টি–টোয়েন্টি অর্ধশতক। শেষ পর্যন্ত ৫১ বলে ৬১ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন তিনি। তাঁর ইনিংসে ছিল ৩টি চার ও ৩টি ছক্কা। হৃদয়ের দৃঢ়তায় বাংলাদেশ কোনোভাবে শতরান পেরোয়।
অস্ট্রেলিয়ার হয়ে স্পেনসার জনসন, নাথান এলিস ও অ্যাডাম জাম্পা দুটি করে উইকেট নেন। মাত্র ১১০ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই আগ্রাসী ছিল অস্ট্রেলিয়া। পাওয়ার প্লেতেই ৫৪ রান তুলে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় তারা। অধিনায়ক মিচেল মার্শ ছিলেন সবচেয়ে ভয়ংকর। ২৩ বলেই তুলে নেন ফিফটি। পরে ২৮ বলে ৬০ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলে শরিফুল ইসলামের শিকার হন তিনি। ইনিংসটিতে ছিল ৭টি চার ও ৪টি ছক্কা।
মার্শ ফেরার পর কুপার কনোলিকে রিশাদ হোসেন ফিরিয়ে কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করে বাংলাদেশ। কিন্তু ততক্ষণে ম্যাচ প্রায় হাতছাড়া হয়ে গেছে। শেষে ম্যাট রেনশ ও টিম ডেভিডের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে ১১ ওভারেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় অস্ট্রেলিয়া।
বাংলাদেশের হয়ে শরিফুল ইসলাম, নাসুম আহমেদ ও রিশাদ হোসেন একটি করে উইকেট নেন। দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ের জন্য ম্যাচসেরার পুরস্কার জিতেছেন মিচেল মার্শ। আর পুরো সিরিজে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি হিসেবে সিরিজসেরা হয়েছেন ম্যাট রেনশ।
ওয়ানডে সিরিজে ২–১ ব্যবধানে জয়ের পর টি–টোয়েন্টিতে এমন হতাশাজনক পারফরম্যান্স বাংলাদেশের জন্য নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করল। বিশেষ করে ব্যাটিং বিভাগে ধারাবাহিক ব্যর্থতা সিরিজজুড়েই ভুগিয়েছে স্বাগতিকদের। অস্ট্রেলিয়া সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে দাপটের সঙ্গে ৩–০ ব্যবধানে সিরিজ নিজেদের করে নিয়েছে।
আরএস-রাসেল
No comments yet. Be the first to comment!