বিশ্বকাপে অঘটনের শঙ্কা তৈরি হয়েছিল। ম্যাচের শুরুতে পিছিয়ে পড়া ইংল্যান্ড শেষ পর্যন্ত অধিনায়ক হ্যারি কেনের জোড়া গোলে ঘুরে দাঁড়িয়ে ২-১ ব্যবধানে হারিয়েছে ডিআর কঙ্গোকে। নাটকীয় এই জয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে থমাস টুখেলের দল।
বুধবার (১ জুলাই) আটলান্টা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত শেষ ৩২–এর ম্যাচে প্রথমে এগিয়ে যায় ডিআর কঙ্গো। ম্যাচের শুরু থেকেই ইংল্যান্ডকে চাপে রাখে আফ্রিকার দলটি। ২৬তম মিনিটে চ্যানসেল মবেম্বার আক্রমণ থেকে বল পেয়ে ব্রায়ান সিপেঙ্গারের নিচু শট জর্ডান পিকফোর্ডকে পরাস্ত করে জালে জড়ায়। গোল হজমের পর ইংল্যান্ডের খেলায় ছন্দপতন দেখা দেয়।
প্রথমার্ধে কয়েকটি ভালো সুযোগ পেলেও গোলের দেখা পায়নি ইংল্যান্ড। জুড বেলিংহ্যামের হেড দুর্দান্তভাবে ঠেকিয়ে দেন গোলরক্ষক লিওনেল এমপাসি। পরে মার্কাস রাশফোর্ডের শটও গোললাইন থেকে ফিরিয়ে দেন অ্যারন ওয়ান-বিসাকা। অন্যদিকে বিরতির আগে ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে পারেননি ডিআর কঙ্গোর ইয়োয়ান উইসা।
দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণের ধার বাড়াতে একের পর এক পরিবর্তন আনেন ইংল্যান্ড কোচ টমাস টুখেল। মাঠে নামানো হয় বুকায়ো সাকা, অ্যান্থনি গর্ডন ও এবেরেচি এজেকে। বদলি খেলোয়াড়দের উপস্থিতিতে আক্রমণে গতি ফিরে পায় ইংল্যান্ড।
ম্যাচের ৭৫তম মিনিটে গর্ডনের বাড়ানো ক্রস থেকে হেডে সমতা ফেরান অধিনায়ক হ্যারি কেন। গোলের পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নেয় ইংল্যান্ড।
নির্ধারিত সময়ের চার মিনিট আগে আবারও গর্ডনের পাস থেকে দারুণ এক শটে জয়সূচক গোল করেন কেন। আন্তর্জাতিক ফুটবলে এটি ছিল তার ৮৪তম গোল। একই সঙ্গে বিশ্বকাপে নিজের গোলসংখ্যা দাঁড়ায় ১৩-তে। চলতি আসরে পাঁচ গোল করে গোল্ডেন বুটের লড়াইয়েও শক্ত অবস্থানে রয়েছেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক।
এই জয়ে বিশ্বকাপের শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে ইংল্যান্ড। আগামী রোববার ঐতিহাসিক আজতেকা স্টেডিয়ামে সহ-আয়োজক মেক্সিকোর মুখোমুখি হবে তারা।
অন্যদিকে ৫২ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরে ইতিহাস গড়া ডিআর কঙ্গোর স্বপ্নযাত্রার ইতি ঘটল এই পরাজয়ে। তবে শক্তিশালী ইংল্যান্ডকে দীর্ঘ সময় চাপে রেখে বিদায়ের আগে দারুণ লড়াইয়ের নজির রেখে গেল আফ্রিকার দলটি।
আরএস-রাসেল
No comments yet. Be the first to comment!