ইংল্যান্ডের স্বপ্ন ভেঙে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছে আর্জেন্টিনা। আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে নাটকীয় সেমিফাইনালে পিছিয়ে থেকেও ২–১ গোলে জিতেছে লিওনেল মেসির দল। শেষ দিকে এনজো ফার্নান্দেজ ও লতারো মার্টিনেজের দুটি গোলে জয় নিশ্চিত করে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
রোববার নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ফাইনালে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন স্পেন। ৪৮ দলের বিশ্বকাপের প্রথম আসরের শিরোপা নির্ধারণী লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে ইউরোপ ও দক্ষিণ আমেরিকার দুই বর্তমান চ্যাম্পিয়ন।
প্রথমার্ধে দুই দলই সতর্ক ফুটবল খেলায় বড় কোনো সুযোগ তৈরি করতে পারেনি। তবে দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের গতি বদলে যায়। ৫৫তম মিনিটে হ্যারি কেনের আক্রমণ থেকে তৈরি হওয়া সুযোগে মর্গান রজার্সের নিচু ক্রস পোস্টের সামনে জালে জড়িয়ে ইংল্যান্ডকে এগিয়ে দেন অ্যান্থনি গর্ডন।
গোল হজমের পর একের পর এক আক্রমণ চালায় আর্জেন্টিনা। নিকো গঞ্জালেসের হেড, আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের শট এবং এনজো ফার্নান্দেজের দূরপাল্লার প্রচেষ্টা ঠেকিয়ে দেন ইংল্যান্ডের গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ড। একবার ম্যাক অ্যালিস্টারের শট পোস্টেও লাগে।
শেষ পর্যন্ত ৮৫তম মিনিটে সমতায় ফেরে আর্জেন্টিনা। লিওনেল মেসির বাড়ানো বল থেকে দারুণ শটে গোল করেন এনজো ফার্নান্দেজ। ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে গড়াবে বলে যখন মনে হচ্ছিল, তখন যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে আবারও মেসির নিখুঁত ক্রস থেকে হেডে জয়সূচক গোল করেন বদলি স্ট্রাইকার লতারো মার্টিনেজ।
৩৯ বছর বয়সী মেসি এই জয়ে নিজের তৃতীয় বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলার কীর্তি গড়লেন। ১৯৬২ সালে ব্রাজিলের পর প্রথম দল হিসেবে টানা দুটি বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্নও বাঁচিয়ে রাখল আর্জেন্টিনা।
অন্যদিকে ১৯৬৬ সালের পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার স্বপ্নভঙ্গ হলো ইংল্যান্ডের। অ্যান্থনি গর্ডনের গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর অতিরিক্ত রক্ষণাত্মক কৌশলের মূল্য দিতে হয়েছে থমাস টুখেলের দলকে। অধিনায়ক হ্যারি কেন ও জুড বেলিংহামও প্রত্যাশিত পারফরম্যান্স দেখাতে পারেননি।
শনিবার তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ফ্রান্সের মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ড।
আরএস-রাসেল
No comments yet. Be the first to comment!