অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টে ড্রয়ের চিন্তা করে বাংলাদেশ যেন রক্ষণাত্মক না হয়ে পড়ে, সে বিষয়ে সতর্ক করেছেন সাবেক বাংলাদেশ দলের পেস বোলিং কোচ ও দক্ষিণ আফ্রিকার কিংবদন্তি পেসার অ্যালান ডোনাল্ড। তাঁর মতে, ডারউইনে যে কৌশল অনুসরণ করে বাংলাদেশ প্রথম টেস্ট জিতেছে, দ্বিতীয় ম্যাচেও সেই পরিকল্পনায় অটল থাকতে হবে।
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথম টেস্টে স্বাগতিকদের ৯ উইকেটে হারিয়ে ইতিহাস গড়েছে বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এটি বাংলাদেশের দ্বিতীয় টেস্ট জয়। সিরিজে পিছিয়ে পড়ায় দ্বিতীয় টেস্টে অস্ট্রেলিয়া সর্বশক্তি নিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করবে বলে মনে করেন ডোনাল্ড।
দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে দেওয়া এক অডিও বার্তায় এএফপিকে ৫৯ বছর বয়সী ডোনাল্ড বলেন, ‘বাংলাদেশকে দ্বিতীয় টেস্টে গুঁড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করতে অস্ট্রেলিয়া তাদের সব অস্ত্র নিয়ে মাঠে নামবে।’
ড্রয়ের চিন্তা না করার পরামর্শ
দুই ম্যাচের সিরিজে প্রথম টেস্ট জিতে এগিয়ে থাকা বাংলাদেশের সামনে সিরিজ জয়ের সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে এই সমীকরণ যেন দলকে রক্ষণাত্মক করে না ফেলে, সেই সতর্কবার্তাই দিয়েছেন ডোনাল্ড।
তিনি বলেন, দুই ম্যাচের সিরিজে একটি দল প্রথম ম্যাচ জিতলে সহজেই মনে হতে পারে, ‘কিছুই হয়নি, আমরা তো সিরিজ হারতে পারি না।’ এরপর ড্রয়ের কথা মাথায় রেখে রক্ষণাত্মক ক্রিকেট খেলার প্রবণতা তৈরি হতে পারে। বাংলাদেশের সেই পথে হাঁটা উচিত হবে না।
ডোনাল্ডের পরামর্শ, ডারউইনে যে ‘একই পরিকল্পনা’ নিয়ে বাংলাদেশ খেলেছে, সেই পরিকল্পনার ওপরই আস্থা রাখতে হবে।
৫৪ রানে অলআউটের পরও দুর্দান্ত ঘুরে দাঁড়ানো
ডারউইনে বাংলাদেশের মানসিক দৃঢ়তার বিশেষ প্রশংসা করেছেন ডোনাল্ড। টেস্টের আগে প্রস্তুতি ম্যাচে মাত্র ৫৪ রানে অলআউট হওয়ার পরও বাংলাদেশ যেভাবে নিজেদের সামলে নিয়েছে, সেটিকে তিনি অসাধারণ প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখছেন।
ডোনাল্ড বলেন, আগের ম্যাচে ৫৪ রানে অলআউট হওয়ার পর কিছুটা ধাক্কা লাগা স্বাভাবিক। কিন্তু এরপর বাংলাদেশের প্রতিক্রিয়া ছিল অসাধারণ।
হাসান মাহমুদের প্রশংসায় ডোনাল্ড
বাংলাদেশের বর্তমান পেস বোলিং আক্রমণ নিয়েও মুগ্ধ সাবেক এই কোচ। বিশেষ করে হাসান মাহমুদের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সের প্রশংসা করেছেন তিনি।
ডোনাল্ড বলেন, বাংলাদেশের পেসাররা আধিপত্য বিস্তার করে বোলিং করেছে। হাসান এখন অসাধারণ ফর্মে আছেন এবং তাঁর পারফরম্যান্সে তিনি খুশি।
হাসানের দক্ষতার কথা স্মরণ করে ডোনাল্ড বলেন, কয়েক বছর আগে নেটে প্রথম তাঁকে দেখেই মনে হয়েছিল, এই পেসারের বিশেষ সামর্থ্য আছে। তাঁর নিয়ন্ত্রণ অসাধারণ এবং বল নির্দিষ্ট জায়গায় ফেলতে পারেন। একই সঙ্গে দুই দিকেই বল সুইং করানোর ক্ষমতা রয়েছে তাঁর।
পেস বোলিংয়ে বাংলাদেশের গভীরতা
ডারউইনে বাংলাদেশের পেসারদের পারফরম্যান্স দলের বোলিং আক্রমণের গভীরতাও প্রমাণ করেছে বলে মনে করেন ডোনাল্ড।
চোটের কারণে নাহিদ রানা না থাকলেও বাংলাদেশ শক্তিশালী পেস আক্রমণ নিয়ে মাঠে নামতে পেরেছে। তাঁর জায়গায় ইবাদত হোসেন কার্যকর ভূমিকা রাখায় পেস বোলিংয়ের গভীরতার বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়েছে বলে মনে করেন তিনি।
ডোনাল্ড বলেন, একটি বোলিং আক্রমণের গভীরতা তখনই বোঝা যায়, যখন নাহিদ রানার মতো গুরুত্বপূর্ণ একজন না থাকলেও ইবাদত হোসেনের মতো আরেকজন এসে নিজের দায়িত্ব পালন করতে পারেন।
বাংলাদেশের পেস বোলিংয়ে এমন গভীরতা তৈরি হওয়াকে ইতিবাচক দিক হিসেবে দেখছেন ডোনাল্ড। তাঁর মতে, সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের বোলিং লাইনআপে যে গভীরতা তৈরি হয়েছে, সেটি দেখতে ভালো লাগছে।
আরএস-রাসেল
No comments yet. Be the first to comment!