বেগম খালেদা জিয়া আইএইচএফ নেশন্স ট্রফিতে মালদ্বীপকে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছে বাংলাদেশ। শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ শক্তিশালী ভারত। ফাইনালে নিজেদের সেরাটা দিয়ে দেশের সম্মান ধরে রাখাই লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশের হ্যান্ডবল দলের তারকা খেলোয়াড় সানজিদা আক্তার।
মালদ্বীপের বিপক্ষে সেমিফাইনালে একাই ৮টি গোল করে ম্যাচসেরা হয়েছেন সানজিদা। ম্যাচ শেষে নিজের পারফরম্যান্স ও ফাইনালের প্রস্তুতি নিয়ে কথা বলেন তিনি।
সানজিদা জানান, ভারতের বিপক্ষে আগের ম্যাচে যেসব ভুলত্রুটি ছিল, সেগুলো নিয়ে আলোচনা করে মালদ্বীপের বিপক্ষে শুধরে নেওয়ার চেষ্টা করেছেন তাঁরা। সেই প্রচেষ্টার ফল হিসেবেই এসেছে জয়।
ফাইনালে নিজেদের সেরাটা দেওয়ার প্রত্যয় জানিয়ে সানজিদা বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করব আমাদের সেরাটা দেওয়ার। যেহেতু আমাদের দেশের মাটিতে খেলা, সে কারণে আমাদের লক্ষ্য সম্মানটা ধরে রাখা। বাকিটা আল্লাহর ইচ্ছা।’
প্রস্তুতিতে এগিয়ে ভারত
ভারতের বিপক্ষে লড়াইয়ের চ্যালেঞ্জ তুলে ধরে সানজিদা বলেন, ভারত বাংলাদেশের চেয়ে অনেক শক্তিশালী দল। তাদের নিয়মিত অনুশীলন ও দীর্ঘ সময় ধরে ক্যাম্পে থাকার সুযোগ রয়েছে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে সেই সুযোগ সীমিত।
সানজিদার ভাষায়, ‘আপনারা জানেন যে ভারত আমাদের থেকে অনেক শক্তিশালী। কারণ তারা নিয়মিত অনুশীলন করে, সারা বছর ক্যাম্পে থাকে। আমাদের কিন্তু সেই ক্যাম্পিংটা হয় না, চার-পাঁচ মাসের একটা ক্যাম্প হয়। ওই চার-পাঁচ মাসের ভেতরে আমরা যতটুকু পারি নিজেদের রিকভার করি।’
ভারতের বিপক্ষে ভালো ম্যাচের প্রত্যাশা শাম্মীর
ফাইনাল নিয়ে আশাবাদী দলের আরেক গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় সাকিবা জান্নাত শাম্মীও। ভারতকে অভিজ্ঞ দল হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে খেলার সুযোগ ও নিয়মিত ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতায় ভারত এগিয়ে। র্যাঙ্কিংয়েও দলটি বাংলাদেশের চেয়ে ভালো অবস্থানে রয়েছে।
শাম্মী বলেন, ‘ভারত হচ্ছে একটা অভিজ্ঞ দল। তারা আন্তর্জাতিক অনেক টুর্নামেন্ট খেলার সুযোগ পায়। তারা নিয়মিত অনেক ম্যাচ খেলে এবং র্যাঙ্কিংয়েও আমাদের চেয়ে ভালো। আমরা তো এত আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার সুযোগ পাই না। তবে ইনশাআল্লাহ আমরা ভারতকে পরাজিত করব একদিন। এই মুহূর্তে আমাদের মূল লক্ষ্য—ভারতের সঙ্গে একটা ভালো ম্যাচ উপহার দিতে চাই।’
দেশের মাটিতে ফাইনাল খেলতে নামার আগে বাংলাদেশের লক্ষ্য তাই নিজেদের সামর্থ্যের সর্বোচ্চটা দিয়ে লড়াই করা এবং দর্শকদের ভালো একটি ম্যাচ উপহার দেওয়া।
আরএস-রাসেল
No comments yet. Be the first to comment!