বেগম খালেদা জিয়া আইএইচএফ নেশনস ট্রফির ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে হেরে গেলেও দলের সামগ্রিক অগ্রগতি নিয়ে সন্তুষ্ট বাংলাদেশ নারী হ্যান্ডবল দলের স্প্যানিশ কোচ আনা আলোনসো ফ্রাগুয়া। দক্ষিণ এশিয়ার যেকোনো দেশের বিপক্ষে লড়াই করার মতো সামর্থ্য গড়ে তোলার সঠিক পথেই দল রয়েছে বলে মনে করেন তিনি।
তবে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিয়মিত প্রতিদ্বন্দ্বীতা গড়ে তুলতে খেলোয়াড়দের শারীরিক ফিটনেস, রক্ষণভাগের উন্নয়ন এবং সারা বছর কঠোর অনুশীলনের ওপর জোর দিয়েছেন এই স্প্যানিশ কোচ।
বৃহস্পতিবার পল্টনের শহীদ ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী জাতীয় হ্যান্ডবল স্টেডিয়ামে চার জাতির এই টুর্নামেন্টের ফাইনালে ভারতের কাছে ২৮-১৬ গোলে হেরে রানার্সআপ হয়েছে বাংলাদেশ।
ম্যাচ শেষে টুর্নামেন্টে দলের সামগ্রিক পারফরম্যান্স নিয়ে আলোনসো বলেন, ‘টুর্নামেন্ট নিয়ে আমি খুবই আনন্দিত। আমাদের কাজ চালিয়ে যেতে হবে, তবে দক্ষিণ এশিয়ার যেকোনো দেশের বিপক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করার সঠিক পথেই আমরা এগোচ্ছি।’
দলের ভবিষ্যৎ উন্নতির জায়গাগুলো চিহ্নিত করতে গিয়ে ফিটনেস ও রক্ষণভাগকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন আলোনসো। তিনি বলেন, ‘প্রথমত, আমাদের শুধু হ্যান্ডবল খেলোয়াড় হলেই চলবে না, সামগ্রিকভাবে অ্যাথলেট হতে হবে; হ্যান্ডবল খেলার জন্য যতটুকু ফিট থাকা দরকার, ততটুকু ফিটনেস থাকতে হবে। এরপর দ্বিতীয় দিকটি হলো ডিফেন্স বা রক্ষণভাগ। ব্যক্তিগত টেকনিক ও ট্যাকটিকসের দিক থেকে রক্ষণে আমাদের অনেক উন্নতি করতে হবে। তাই মূল মনোযোগটা থাকবে শক্তি (স্ট্রেন্থ) এবং রক্ষণভাগের ওপর।’
ফাইনালে বাংলাদেশের ফিনিশারদের ব্যর্থতা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে অবশ্য খেলোয়াড়দের পাশেই দাঁড়িয়েছেন কোচ। ভারতীয় গোলরক্ষক দিকশা কুমারীর অসাধারণ পারফরম্যান্সকেই ব্যবধান গড়ে দেওয়ার মূল কারণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমার কাছে এটিকে কোনো বড় সমস্যা মনে হয়নি। গত ম্যাচে আমাদের এই সমস্যাটি ছিল না। আজকের ম্যাচে ভারতের গোলরক্ষক খুবই ভালো খেলেছে। মাঝে মাঝে এমনটা হয়েই থাকে। আমাদের সব বিভাগেই উন্নতি করতে হবে, তবে আজকের ম্যাচটি ভারতের গোলরক্ষকের জন্য দারুণ ছিল। তাই এখানে আমাদের বিশেষ কিছু করার ছিল না।’
আন্তর্জাতিক মঞ্চে সাফল্য পেতে শুধু ম্যাচ খেলাই যথেষ্ট নয়, সারা বছর অনুশীলনের সংস্কৃতি গড়ে তোলা প্রয়োজন বলে মনে করেন আলোনসো। ক্লাব পর্যায়ে কঠোর অনুশীলনের তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, ‘অবশ্যই ম্যাচ খেলা গুরুত্বপূর্ণ, তবে আমার মতে অনুশীলনের গুরুত্ব আরও বেশি। আমরা যখন ক্লাবে বা নিজ নিজ দলের সঙ্গে থাকি, তখনও কঠোর অনুশীলন করতে হবে; শুধু জাতীয় দলের ক্যাম্পে আসলেই যে কঠোর অনুশীলন করব তা নয়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো শুধু ক্যাম্পের সময় নয়, প্রতিদিন কঠোর অনুশীলন চালিয়ে যাওয়া।’
একটি শক্তিশালী দল গড়ে তোলার পূর্বশর্ত হিসেবে ঘরোয়া প্রতিযোগিতা বৃদ্ধির ওপর জোর দিয়ে বাংলাদেশ কোচ আরও যোগ করেন, ‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো দেশের ভেতরে প্রতি সপ্তাহে প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ থাকা, নিয়মিত একটি লিগ থাকা এবং অনুশীলনের সময় সর্বোচ্চটা দিয়ে পরিশ্রম করা। কেবল আনন্দের জন্য অনুশীলনে অংশ নেওয়া নয়, নিজেকে আরও উন্নত করার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামা প্রয়োজন।’
আরএস-রাসেল
No comments yet. Be the first to comment!