দেশের ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়নে খেলোয়াড়দের দক্ষতা বৃদ্ধি ও সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিত করাকে সরকার অগ্রাধিকার দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক। তিনি বলেছেন, শুধু ক্রীড়া অবকাঠামো নির্মাণ নয়, খেলোয়াড়দের উন্নয়ন এবং ক্রীড়া সুবিধায় তাঁদের প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করাই সরকারের মূল লক্ষ্য।
গতকাল মঙ্গলবার আজারবাইজানের বাকুতে অনুষ্ঠিত প্রথম ফিফা অনূর্ধ্ব-১৫ বিশ্বকাপ ও ফেস্টিভালের ই-টায়ারে রানার্সআপ হওয়া বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৫ ফুটবল দলকে দেওয়া এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রথমবারের মতো আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় ১৯১টি দেশের মধ্যে সামগ্রিকভাবে ১৩০তম স্থান অর্জন করে বাংলাদেশ। তরুণ খেলোয়াড়দের আবেগ, নিষ্ঠা ও অঙ্গীকারের প্রশংসা করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সম্প্রতি বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) কার্যালয় পরিদর্শনে গিয়ে খেলোয়াড়দের দৃঢ় সংকল্প ও দেশপ্রেমের পরিচয় পেয়েছেন তিনি।
আমিনুল হক বলেন, ‘এই পর্যায়ে ম্যাচের ফল, জয়, হার কিংবা ড্র—আমাদের কাছে গৌণ। আমাদের প্রধান লক্ষ্য হলো এই প্রতিভাবান তরুণদের গড়ে তুলে বিশ্বমানের ক্রীড়াবিদ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা।’
সরকারের কৌশলগত পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রণালয়কে অবকাঠামো নির্মাণের পাশাপাশি খেলোয়াড়দের উন্নয়ন ও ক্রীড়া সুবিধা নিশ্চিত করার ওপর বেশি গুরুত্ব দিতে নির্দেশ দিয়েছেন। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী জাতীয় পর্যায়ের খেলোয়াড়দের আর্থিক নিরাপত্তা ও পেশাগত উন্নয়নে নিয়মিত ক্রীড়া ভাতা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে এ কর্মসূচির পরিধি বাড়ানো হবে।
৪ হাজার ৫৯৯ ইউনিয়নে খেলার মাঠের পরিকল্পনা
তৃণমূল পর্যায়ে খেলাধুলার সুযোগ বাড়াতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী। তিনি ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ কর্মসূচির সাফল্যের কথাও উল্লেখ করেন।
প্রতিমন্ত্রী জানান, এই কর্মসূচির প্রথম আসরে নির্বাচিত ৪০ জন প্রতিভাবান খেলোয়াড়ের মধ্যে ১২ জন ছেলে ও ২৮ জন মেয়েকে আগামী জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে (বিকেএসপি) ভর্তি করা হবে। উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত তাদের সাধারণ শিক্ষা ও বিশেষায়িত ক্রীড়া প্রশিক্ষণের সব ব্যয় বহন করবে সরকার।
সুস্থ জাতি গঠন এবং তরুণদের মাদকাসক্তি ও অতিরিক্ত ডিভাইস ব্যবহারের আসক্তি থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দেন আমিনুল হক। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় দেশের ৪ হাজার ৫৯৯টি ইউনিয়নের প্রতিটিতে ব্যবহার উপযোগী খেলার মাঠ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়েছে মন্ত্রণালয়।
ইতিমধ্যে ৩৭টি জেলার ৫৫৩টি ইউনিয়ন পর্যায়ের খেলার মাঠের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। উন্মুক্ত খেলাধুলার সুযোগ বাড়াতে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে এক হাজার মাঠের মূল্যায়ন সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রত্যেক খেলোয়াড়কে এক লাখ টাকা পুরস্কার
অনুষ্ঠানে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৫ দলের প্রত্যেক সদস্যকে এক লাখ টাকা করে আর্থিক পুরস্কারের চেক দেওয়া হয়। প্রতিমন্ত্রী খেলোয়াড়দের হাতে এসব চেক তুলে দেন।
তিনি বলেন, ‘আর্থিক পুরস্কারটাই এখানে মূল বিষয় নয়; বরং এর মাধ্যমে একটি বার্তা দেওয়া হচ্ছে যে সরকার, দেশ ও দেশের মানুষ আমাদের খেলোয়াড়দের পাশে দৃঢ়ভাবে রয়েছে।’
এ সময় দেশের তরুণ ক্রীড়াপ্রেমীদের মাঠে এসে খেলাধুলায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান আমিনুল হক। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার জন্য নিজেদের প্রস্তুত করতেও তরুণদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
আরএস-রাসেল
No comments yet. Be the first to comment!