খেলাধুলা

হৃদয়ের সবকিছুই ছিল অসাধারণ: ফিল সিমন্স

আপডেট: নভে ০৮, ২০২৬ : ০৫:৩৩ এএম ৭ ০
হৃদয়ের সবকিছুই ছিল অসাধারণ: ফিল সিমন্স

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিলেট টেস্টে তাওহিদ হৃদয়ের ঐতিহাসিক ডাবল সেঞ্চুরিতে মুগ্ধ বাংলাদেশ দলের প্রধান কোচ ফিল সিমন্স। হৃদয়ের ব্যাটিং, ধৈর্য, দায়িত্ববোধ ও ম্যাচ পরিস্থিতি বোঝার দক্ষতার প্রশংসা করে তিনি বলেছেন, এই ইনিংসে হৃদয়ের সবকিছুই ছিল অসাধারণ।

শনিবার সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টের প্রথম ইনিংসে ৩৫৯ বলে ২২টি চার ও ১১টি ছক্কায় অপরাজিত ২৪২ রান করেন হৃদয়। তাঁর ব্যাটিংয়ে ভর করে প্রথম ইনিংসে ৩৮৬ রান করে বাংলাদেশ। একপর্যায়ে ৬ উইকেটে ১৮৪ রান নিয়ে চাপে পড়া দলটি শেষ পর্যন্ত ৩০ রানের লিড পায়।

দিনের খেলা শেষে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন ফিল সিমন্স। হৃদয়ের ইনিংস নিয়ে তিনি বলেন, ‘এটি ছিল অসাধারণ একটি ইনিংস। ক্লান্ত হয়ে পড়ার পরও সে যেভাবে বাউন্ডারি খুঁজে পেয়েছে এবং ছক্কা মেরেছে, তা অবিশ্বাস্য।’

সিমন্স আরও বলেন, ‘কোন শট কখন খেলতে হবে এবং শেষ তিন ব্যাটারকে কখন স্ট্রাইক দিতে হবে, সে বিষয়ে হৃদয় অসাধারণ ম্যাচ সচেতনতার পরিচয় দিয়েছে। এই ইনিংসে সে যা করেছে, তার সবকিছুই ছিল অসাধারণ।’

ঢাকায় সিরিজের প্রথম টেস্টে ব্যাট হাতে প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি হৃদয়। কিছু দায়িত্বজ্ঞানহীন শট খেলার কারণে তাঁর টেস্ট ব্যাটিংয়ের ধরন নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল। তবে কোচ মনে করেন, তরুণ এই ব্যাটার দ্রুত পরিণত হচ্ছেন।

সিমন্স বলেন, ‘হ্যাঁ, ঢাকায় সে দু-একটি বাজে শট খেলেছিল। কিন্তু সেটি ছিল তার দ্বিতীয় টেস্ট ম্যাচ। তাই ওই ভুলের জন্য তাকে দোষারোপ করা যায় না। আমার মনে হয়, সে দ্রুত পরিণত হচ্ছে এবং আজ আমরা সেটির প্রমাণ দেখেছি।’

ইনিংস চলাকালে হৃদয়কে বিশেষ কোনো নির্দেশনা দেননি বলেও জানান বাংলাদেশ কোচ। তাঁর মতে, মাঠে নেমে ব্যাটিংয়ের দায়িত্ব ব্যাটারদের নিজেদেরই নিতে হয়।

এ প্রসঙ্গে সিমন্স বলেন, ‘তুমি যখন ব্যাটিং করছ, তখন কীভাবে ব্যাটিং করতে হবে, সে বিষয়ে আমি বার্তা পাঠাতে পারি না। একবার সীমানা অতিক্রম করে মাঠে ঢুকে পড়লে দায়িত্ব তাদেরই।’

হৃদয়কে শেষ দিকে সহযোগিতা করা তাইজুল ইসলাম ও তাসকিন আহমেদেরও প্রশংসা করেন সিমন্স। বিশেষজ্ঞ ব্যাটারদের সঙ্গে ক্রিজে টিকে থেকে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার যে পরিকল্পনা ছিল, এই দুই বোলার সেটিই বাস্তবায়ন করেছেন বলে জানান তিনি।

চোটে সাদমান, স্পিনারদের নিয়ে আশাবাদী কোচ

এদিকে বাংলাদেশ দলের ওপেনার সাদমান ইসলাম গুরুতর চোট পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন সিমন্স। শুক্রবার তাঁকে হুইলচেয়ারে করে মাঠের বাইরে নিয়ে যেতে হয়েছিল। তবে দুই দিনের বিশ্রামে তিনি সুস্থ হয়ে উঠবেন বলে আশা করছেন কোচ। ইনিংসে ব্যাটিংয়ের জন্য সাদমানের প্রয়োজন না হওয়ায় স্বস্তিও প্রকাশ করেন তিনি।

দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশের তিন স্পিনার আরও ভালো করবেন বলে আশাবাদী সিমন্স। এই টেস্টে একজন পেসার কম নিয়ে খেলার ধারণাও নাকচ করে দেন তিনি।

কোচের মতে, ঢাকা টেস্ট ও সিলেটে প্রথম ইনিংসে স্পিনাররা এখনো নিজেদের প্রকৃত সামর্থ্য দেখাতে পারেননি। দ্বিতীয় ইনিংসে সুযোগ পেলে তাঁরা ভালো করবেন বলে বিশ্বাস তাঁর।

আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!