আইন-আদালত

১৮০ দিনে বিচার শেষ না হলেও নারী ও শিশু নির্যাতন মামলা বাতিল হবে না: হাইকোর্ট

আপডেট: সেপ্টে ২৩, ২০২৬ : ০৫:৪৮ এএম
১৮০ দিনে বিচার শেষ না হলেও নারী ও শিশু নির্যাতন মামলা বাতিল হবে না: হাইকোর্ট

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলায় নির্ধারিত ১৮০ দিনের মধ্যে বিচার শেষ না হলেও সেই মামলার বিচারিক কার্যক্রম বাতিল বা স্থগিত হবে না বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। আদালত বলেছেন, ১৮০ দিনের মধ্যে বিচার শেষ করার সময়সীমা বাধ্যতামূলক নয়, এটি নির্দেশনামূলক।

‘মো. সাইফুল ইসলাম ওরফে পাভেল বনাম রাষ্ট্র’ মামলায় এই রায় দেন হাইকোর্ট। বিচারপতি কে এম কামরুল কাদের ও বিচারপতি মোহাম্মদ শওকত আলী চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ ২০২৩ সালের ৭ জুন এ রায় দেন। সম্প্রতি রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।

১৮০ দিন পার হলে মামলার কার্যক্রম বন্ধ নয়

রায়ে আদালত বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ২০ ও ৩১ক ধারা পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ১৮০ দিনের মধ্যে বিচার শেষ না হওয়ার কারণে কোনো মামলার বিচারিক কার্যক্রম স্থগিত বা বাতিল করার বিধান নেই।

অর্থাৎ, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিচার শেষ করা সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালের দায়িত্ব হলেও ওই সময়সীমা পার হয়ে গেলে মামলার বিচার স্বয়ংক্রিয়ভাবে অকার্যকর হয়ে যাবে না।

আদালত আরও বলেন, ট্রাইব্যুনাল নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিচার শেষ করতে ব্যর্থ হলে এ বিষয়ে প্রতিবেদন দেওয়ার বিধান রয়েছে। তবে সেই সময়সীমা অতিক্রমের কারণে বিচার বন্ধ হয়ে যাওয়ার কোনো আইনি পরিণতি আইনে রাখা হয়নি।

যে মামলায় রায়

প্রকাশিত রায়ের তথ্য অনুযায়ী, ইডেন কলেজের এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগে ২০০৮ সালে রাজধানীর শ্যামপুর থানায় মামলা হয়। মামলায় মো. সাইফুল ইসলাম ওরফে পাভেলসহ কয়েকজনকে আসামি করা হয়।

তদন্ত শেষে পুলিশ তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয়। পরে মামলাটি ঢাকার ১ নম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে বিচারের জন্য যায়। ২০০৮ সালের ২৩ জুলাই পাভেলের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন।

বিচার স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন

পরে ২০১১ সালের ৮ মে হাইকোর্টে রিট করেন পাভেল। তাঁর দাবি ছিল, মামলার নথি ট্রাইব্যুনালে গ্রহণের পর ১৮০ দিনের মধ্যে বিচার শেষ হয়নি। তাই নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন অনুযায়ী মামলাটির বিচার চলতে পারে না।

তাঁর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট প্রথমে মামলার বিচারিক কার্যক্রম তিন মাসের জন্য স্থগিত করেন। পরে ওই স্থগিতাদেশ কয়েক দফা বাড়ানো হয়।

উভয় পক্ষের বক্তব্য এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের সংশ্লিষ্ট ধারাগুলো পর্যালোচনা করে ২০২৩ সালের ৭ জুন রিটের পরিপ্রেক্ষিতে জারি করা রুল খারিজ করে দেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে আগের দেওয়া স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার ও বাতিল করা হয়।

আসামির দাবিতে আইনি অধিকার তৈরি হয়নি

রায়ে হাইকোর্ট বলেন, মামলাটি দীর্ঘদিন বিচারাধীন ছিল না এবং রিটকারী মামলার পরবর্তী কয়েকটি আদেশ গোপন করেছিলেন। আদালতের মতে, বিচারিক কার্যক্রম স্থগিত করার জন্য রিটকারীর পক্ষ থেকে যে যুক্তি দেখানো হয়েছে, তাতে তাঁর কোনো মৌলিক অধিকার লঙ্ঘিত হয়নি।

সার্বিক তথ্য-প্রমাণ, পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি ও আইনের বিধান বিবেচনায় রিটে কোনো সারবত্তা না পাওয়ায় রুলটি খারিজ করা হয়।

আদালতে পাভেলের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী এম এইচ রশীদ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল শেখ সাইফুজ্জামান (জামান) ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মো. শফিকুজ্জামান (রানা)। মূল রায়টি লিখেছেন বিচারপতি মোহাম্মদ শওকত আলী চৌধুরী।

আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!