বিনোদন

মাটির সঙ্গে দোস্তি, শখের কুমোর ঐশী

আপডেট: অক্টো ০৪, ২০২৬ : ০৫:৪৬ এএম ৫ ০
মাটির সঙ্গে দোস্তি, শখের কুমোর ঐশী

‘রেখো মাটির পরে দুটি পা, রেখো মাটির সাথে দোস্তি; জেনো আকাশের কোনো ঠিক নেই, মাটি মরণেও দেয় স্বস্তি’—গানটির কথাগুলো যেন মিলে যায় অভিনেত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস ঐশীর সাম্প্রতিক এক শখের সঙ্গে। অভিনয়ের ব্যস্ততার বাইরে এবার কাদামাটির সঙ্গে সময় কাটাতে দেখা গেল তাঁকে। ঘূর্ণায়মান চাকতিতে মাটি রেখে নানা আকৃতি দেওয়ার চেষ্টা করছেন এই অভিনেত্রী।

ছবিতে দেখা যায়, নীল রঙের একটি মোড়ায় বসে আছেন ঐশী। পরনে লাল টপ, কালো প্যান্ট ও ধূসর অ্যাপ্রোন। সামনে মৃৎশিল্পের চাকতি। তার ওপর রাখা কাদামাটি ঘুরছে চাকতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে। আর কোমল হাতে সেই মাটিকে নতুন আকার দেওয়ার চেষ্টা করছেন তিনি।

হঠাৎ মৃৎশিল্পের প্রতি আগ্রহ কেন—জানতে চাইলে ঐশী বলেন, তাঁর জন্ম ও বেড়ে ওঠা গ্রামে। তাই শহুরে জীবনে মাঝেমধ্যে হাঁসফাঁস লাগে। ঘাস ও মাটির সংস্পর্শে গেলে তাঁর ভালো লাগে।

ঐশীর ভাষায়, ‘গ্রামে জন্ম ও বেড়ে ওঠা আমার। ফলে কিছুদিন পরপরই শহুরে পরিবেশে একটু হাঁসফাঁস লাগে। একটু ঘাস, মাটির সংস্পর্শে আসতে ইচ্ছে করে।’

কাদামাটি দিয়ে বিভিন্ন জিনিস বানানোর প্রতি তাঁর আগ্রহ অবশ্য নতুন নয়। চাকতি ঘুরিয়ে মাটিকে নানা আকৃতি দেওয়ার কাজটি অনেক দিন ধরেই করতে চেয়েছিলেন তিনি। সম্প্রতি এক বন্ধুর সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলার পর সুযোগটি আসে। ওই বন্ধু থিয়েটারের সঙ্গে যুক্ত এবং প্রপস তৈরির কাজে মাটি নিয়ে কাজ করেন।

রাজধানীর একটি ক্লে-স্টেশনে গিয়ে মৃৎশিল্পের এই অভিজ্ঞতা নেন তাঁরা। প্রথমে ছোট চাকতি দিয়ে চেষ্টা করেন ঐশী। তাতেই বুঝতে পারেন, কাজটি যতটা সহজ মনে হয়, আসলে ততটা নয়।

ঐশী বলেন, ‘বড় হুইল দিয়ে চেষ্টার আগে ছোটটা দিয়ে ট্রাই করলাম। আর বুঝলাম, ইটস রিয়েলি ডিফিকাল্ট। যারা কুমোর, তাঁদের শিল্প, দক্ষতা ও পরিশ্রমের প্রতি সম্মান অনেক বেড়ে গেল।’

প্রথমবারের চেষ্টায় খুব বেশি কিছু বানাতে পারেননি ঐশী। তাঁর মতে, মাটির দলাটিকে চাকতির ঠিক মাঝখানে রেখে সেটি ঘুরিয়ে কোনো একটি আকৃতি দেওয়াই সবচেয়ে কঠিন কাজ।

‘এ কাজে প্রথম চ্যালেঞ্জ হলো, মাটির দলাটাকে চাকতির ঠিক মাঝখানে রাখা। তারপর সেটাকে ঘুরিয়ে কোনো কিছুর আকৃতি দেওয়া, খুব কঠিন। একরকম আকৃতি যে দিতে পেরেছি, তা-ই বিরাট ব্যাপার,’ বলেন তিনি।

তবে সেই তৈরি জিনিসটি পুড়িয়ে বাড়িতে নিয়ে যেতে আরও অনুশীলন প্রয়োজন বলে মনে করেন ঐশী।

শৈশবের কাদামাটির স্মৃতি

চাকতিতে মাটি নিয়ে কাজ করতে গিয়ে শৈশবের স্মৃতিও মনে পড়ে গেছে ঐশীর। গ্রামের বাড়িতে ছোটবেলায় উইপোকার ঢিবির নরম মাটি দিয়ে নানা ধরনের জিনিস বানাতেন তিনি।

ঐশী বলেন, ‘ছোটবেলায় উইপোকার মাটি দিয়ে বানাতাম। গ্রামের মানুষেরা চিনবে এ মাটি, নরম প্রকৃতির। সে মাটি দিয়ে অনেক সুন্দর সুন্দর জিনিস বানানো যায়।’

পুকুরপাড়ের বড় উইপোকার ঢিবি থেকে মাটি এনে খেলতেন তিনি। মাটি দিয়ে বিভিন্ন জিনিস বানিয়ে রোদে শুকাতেন। এরপর মাটির চুলায় রান্না শেষ হলে জ্বলন্ত কয়লার মধ্যে রেখে দিতেন। পরে সেগুলো শক্ত হয়ে গেলে যত্ন করে রেখে দিতেন।

হুইলে মাটি দিয়ে কাজ করতে গিয়ে সেই শৈশবের স্মৃতিই বারবার মনে পড়ছিল তাঁর। ঐশী বলেন, ‘যখন কিছু বানাতে পারছিলাম না, তখন আমি বন্ধুকে বলছিলাম, চল আমরা ছোটবেলার মতো মোবাইল বানিয়ে ফেলি!’

প্রকৃতির কাছেই স্বস্তি

জেনারেশন জেডের প্রতিনিধি হয়েও অবসর কাটানোর ধরনে নিজেকে কিছুটা ‘ওল্ডস্কুল’ মনে করেন ঐশী। পার্টিতে যাওয়ার চেয়ে প্রকৃতির কাছে থাকা কিংবা মাটি দিয়ে কিছু বানানোর মতো কাজে সময় কাটাতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন তিনি।

ঐশী বলেন, ‘আমার প্রজন্মের তুলনায় আমি একটু ওল্ডস্কুল, সাবেকি স্বভাবের। ফ্রি সময়ে আমার পার্টিতে যেতে ভালো লাগে না; তার মানে বলছি না, এটা খারাপ। যার যার আনন্দের ধরন আলাদা হবে, এটাই স্বাভাবিক। আমার নিজের সময়গুলো এরকম মাটি দিয়ে কিছু বানিয়ে বা প্রকৃতির কাছে কাটাতে ভালো লাগে।’

অভিনয়ের ব্যস্ততাও আছে

মাটির সঙ্গে সময় কাটানোর পাশাপাশি অভিনয় নিয়েও ব্যস্ত আছেন ঐশী। সাকিব ফাহাদের ‘সোলজার’ সিনেমার প্যাচআপ শুটিং এখনো বাকি। শুটিং শেষ হলে চলতি বছরেই সিনেমাটি মুক্তি পেতে পারে বলে জানিয়েছেন তিনি।

এ ছাড়া আরও কয়েকটি সিনেমা তাঁর পাইপলাইনে রয়েছে। সেগুলোর বিষয়ে শিগগিরই বিস্তারিত জানাবেন এই অভিনেত্রী।

আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!