রাশিয়ার প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং দেশটির মূল্যবোধকে ধারণ করেন এমন ব্যক্তিদের জন্য রাশিয়াকে ‘সেকেন্ড হোম’ বা দ্বিতীয় আবাস হিসেবে বিবেচনার কথা বলেছেন দেশটির উপ-প্রধানমন্ত্রী দিমিত্রি চেরনিশেঙ্কো। ১৪ সেপ্টেম্বর ইকাতেরিনবার্গের ইন্টারন্যাশনাল এক্সিবিশন সেন্টারে আন্তর্জাতিক যুব উৎসব পরিদর্শনের সময় তিনি এ মন্তব্য করেন।
দিমিত্রির বক্তব্যে রাশিয়ার বহুজাতিক ও বহুধর্মীয় সমাজব্যবস্থার বিষয়টি উঠে আসে। তিনি জানান, দেশটিতে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠী ও ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মানুষের বসবাস রয়েছে এবং বিভিন্ন ধর্মের উপাসনালয় পাশাপাশি অবস্থান করছে।
রুশ উপ-প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশটির ঐতিহ্যবাহী আধ্যাত্মিক ও নৈতিক মূল্যবোধ প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসছে। এসব মূল্যবোধকে রাশিয়ার সামাজিক ঐক্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরেন তিনি।
আন্তর্জাতিক পর্যটকদের জন্য রাশিয়ায় ভ্রমণের সুযোগ নিয়েও কথা বলেন দিমিত্রি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, অনলাইনে ই-ভিসা নেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে এবং এই ভিসার মাধ্যমে সর্বোচ্চ ৩০ দিন রাশিয়ায় অবস্থান করা যায়। কয়েকটি দেশের নাগরিকদের জন্য ভিসামুক্ত ভ্রমণ কর্মসূচির কথাও তিনি উল্লেখ করেন।
শিক্ষাক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী বাড়ানোর পরিকল্পনার কথাও জানান রুশ উপ-প্রধানমন্ত্রী। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে রাশিয়ায় কমপক্ষে পাঁচ লাখ আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী পড়াশোনার সুযোগ পাবে—এমন লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
এ লক্ষ্য সামনে রেখে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে আধুনিক ক্যাম্পাসের নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। ২০৩৬ সালের মধ্যে এমন ৪০টি ক্যাম্পাস প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য রয়েছে বলে জানান তিনি। মস্কোর বাউমান মস্কো স্টেট টেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটি ও ইকাতেরিনবার্গের ক্যাম্পাসের কথাও বক্তব্যে উল্লেখ করেন।
ফেস্টিভ্যালের বিভিন্ন আয়োজন ঘুরে দেখার সময় অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন দিমিত্রি চেরনিশেঙ্কো। তরুণদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার পাশাপাশি রাশিয়ার শিক্ষা, পর্যটন ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য সম্পর্কে তাঁদের সঙ্গে আলোচনা করেন তিনি।
No comments yet. Be the first to comment!