আন্তর্জাতিক

ব্রাজিলে হাড্ডাহাড্ডি নির্বাচনী লড়াই, নজর রাখছেন ট্রাম্প

আপডেট: অক্টো ০৪, ২০২৬ : ০৫:৩৬ এএম ৩ ০
ব্রাজিলে হাড্ডাহাড্ডি নির্বাচনী লড়াই, নজর রাখছেন ট্রাম্প

ব্রাজিলে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ভোট গ্রহণ হবে আগামীকাল রোববার। এবারের নির্বাচনে বর্তমান প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা ও ডানপন্থী সিনেটর ফ্লাভিও বলসোনারোর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে।

এই নির্বাচন শুধু ব্রাজিলের পরবর্তী সরকার নির্ধারণ করবে না, লাতিন আমেরিকায় ডানপন্থী রাজনীতির যে প্রবণতা জোরালো হয়েছে, ব্রাজিল সেই পথে যাবে কি না, তারও ইঙ্গিত দেবে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বে অঞ্চলটিতে ডানপন্থী রাজনীতির উত্থানের প্রেক্ষাপটে ব্রাজিলের নির্বাচনকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।

বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

আমাজন রেইনফরেস্টের প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে শুরু করে দক্ষিণের কৃষিপ্রধান অঞ্চল ও বড় শহরের বস্তি—সব জায়গাতেই নির্বাচনী প্রচারণার কেন্দ্রে রয়েছেন পরিচিত দুই মুখ। অনেক ভোটারকে এমন একজনকে বেছে নিতে হচ্ছে, যাঁকে তাঁরা অন্যজনের তুলনায় কম অপছন্দ করেন।

৮০ বছর বয়সী বামপন্থী নেতা লুলা চতুর্থ ও শেষ মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হতে চাইছেন। প্রচারণায় তিনি ভোটারদের সতর্ক করে বলেছেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পের চাপের কারণে ব্রাজিলের সার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে পড়েছে।

লুলার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ৪৫ বছর বয়সী ডানপন্থী সিনেটর ফ্লাভিও বলসোনারো। তিনি দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারোর ছেলে। ২০২২ সালের নির্বাচনে পুনর্নির্বাচিত হতে ব্যর্থ হওয়ার পর অভ্যুত্থানের চেষ্টা করার দায়ে জাইর বলসোনারোকে ২৭ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

জনমত জরিপের পূর্বাভাস অনুযায়ী, রোববারের প্রথম দফার ভোটে কোনো প্রার্থীই ৫০ শতাংশের বেশি ভোট পাওয়ার সম্ভাবনা কম। ফলে আগামী ২৫ অক্টোবর দ্বিতীয় দফায় লুলা ও ফ্লাভিওর মধ্যে সরাসরি লড়াই হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।

ব্রাজিলের দরিদ্র উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও নিম্নআয়ের ভোটারদের মধ্যে লুলার সমর্থন বেশি। ক্যাথলিক ও নারী ভোটারদের মধ্যেও তিনি এগিয়ে রয়েছেন। অন্যদিকে দক্ষিণাঞ্চল, উচ্চআয়ের ভোটার এবং ইভানজেলিক্যাল খ্রিস্টানদের মধ্যে ফ্লাভিওর সমর্থন বেশি।

তীব্রভাবে বিভক্ত ব্রাজিলে দুই প্রার্থীর বিরুদ্ধেই ভোটারদের বড় একটি অংশের নেতিবাচক মনোভাব রয়েছে। নির্বাচনী প্রচারণায় নীতি ও প্রতিশ্রুতির চেয়ে বিভিন্ন কেলেঙ্কারি এবং একে অপরের বিরুদ্ধে আক্রমণই বেশি গুরুত্ব পেয়েছে।

লুলা তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী ফ্লাভিওকে ‘কেউই নয়’ বলে আক্রমণ করেছেন। এমনকি তিনি বলেছেন, ফ্লাভিও ‘একটি ভবনের ব্যবস্থাপক হওয়ারও যোগ্য নন’।

অন্যদিকে নিজের বাবা জাইর বলসোনারোর তুলনায় নিজেকে আরও ‘মধ্যপন্থী’ হিসেবে তুলে ধরছেন ফ্লাভিও। উত্তেজনাপূর্ণ বক্তব্যের জন্য পরিচিত ফ্লাভিও লুলাকে ‘অযোগ্য’ আখ্যা দিয়ে বলেছেন, ‘ব্রাজিল আর আপনাকে সহ্য করতে পারছে না।’

নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি এবং শেষ মুহূর্তে ভোটারদের সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

ব্রাসিলিয়ার ৫২ বছর বয়সী মোটরসাইকেল চালক জোয়েলিও কামার্গো বলেন, ‘আমি আগে লুলাকে ভোট দিয়েছি। কিন্তু তিনি বয়স্ক হয়ে যাচ্ছেন এবং এবার আমি ভিন্ন কিছু চেয়েছিলাম। তবে বলসোনারোকেও ভোট দেব না। তাই আমি কিছুটা দ্বিধায় আছি।’

আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!