যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, বৈশ্বিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় তাঁর ভূমিকার স্বীকৃতি হিসেবে এ বছর শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পাওয়া উচিত তাঁর। তবে নরওয়ের নোবেল কমিটি তাঁকে পুরস্কার দেবে কি না, তা নিয়ে সংশয়ও প্রকাশ করেছেন তিনি।
বুধবার হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় ট্রাম্পকে জিজ্ঞাসা করা হয়, তিনি এ বছর শান্তিতে নোবেল পুরস্কার প্রত্যাশা করছেন কি না। জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, আমার নোবেল পাওয়া উচিত। তবে আমি জানি না তাদের (নরওয়েজীয় নোবেল কমিটি) সিদ্ধান্ত কী হবে। আমার মতো লোকজনকে পুরস্কার না দেওয়ার ব্যাপারে তাদের সুনাম রয়েছে।’
৫ অক্টোবর থেকে ২০২৬ সালের নোবেল পুরস্কার বিজয়ীদের নাম ঘোষণা শুরু হয়েছে। চিকিৎসা, পদার্থবিজ্ঞান ও রসায়নে বিজয়ীদের নাম ইতিমধ্যে ঘোষণা করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার শান্তিতে নোবেল পুরস্কারজয়ীর নাম ঘোষণা করা হবে।
নোবেল পাওয়ার দাবি ট্রাম্পের
২০২৫ সালে হোয়াইট হাউসে দ্বিতীয় মেয়াদে ফিরে আসার পর থেকেই ট্রাম্প বিভিন্ন সময় বলে আসছেন, শান্তিতে নোবেল পাওয়ার যোগ্য তিনি।
গত বছর শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন ভেনেজুয়েলার রাজনীতিক মারিয়া কোরিনা মাচাদো। পুরস্কার পাওয়ার পর চলতি বছরের জানুয়ারিতে তিনি তাঁর নোবেল পদক ট্রাম্পকে উপহার দেন।
ওভাল অফিসে সেই প্রসঙ্গ তুলে ট্রাম্প বলেন, ‘এখন সেই সময় এসেছে। তবে গতবার পুরস্কারজয়ী ব্যক্তি যখন বলেছিলেন যে ইতিহাসের আর কারও চেয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পই এই পুরস্কারের বেশি যোগ্য, তখন পরোক্ষভাবে তা পেয়ে আমি অত্যন্ত সম্মানিত বোধ করেছিলাম।’
ট্রাম্পের দাবি, ২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেওয়ার পর তিনি আটটি আন্তর্জাতিক সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতি সামাল দিয়েছেন। এসব ভূমিকার স্বীকৃতি হিসেবে তাঁর এ বছরের শান্তিতে নোবেল পাওয়া উচিত।
সব সংঘাতের সমাধান নিয়ে প্রশ্ন
কম্বোডিয়া, ইসরায়েল ও পাকিস্তানের নেতারা ট্রাম্পকে শান্তিতে নোবেল পুরস্কারের জন্য মনোনীত করেছেন বলে দাবি করা হয়েছে। তবে এসব মনোনয়নের তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করার সুযোগ নেই।
ট্রাম্প যেসব সংঘাতের সমাধান করেছেন বলে দাবি করছেন, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর অনেকেই সেখানে তাঁর কূটনৈতিক ভূমিকার বিষয়টি অস্বীকার করেছে। ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো এবং কম্বোডিয়া-থাইল্যান্ড সীমান্তের মতো কয়েকটি এলাকায় আবারও সংঘাত দেখা দিয়েছে।
এ ছাড়া ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধ বন্ধের প্রতিশ্রুতিও পূরণ করতে পারেননি ট্রাম্প। হোয়াইট হাউসে দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম দিনেই যুদ্ধটি শেষ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তিনি।
ইরানকে ঘিরেও উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর সেখানে কয়েক মাস ধরে চলা সংঘাত বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে চাপ তৈরি করেছে।
এদিকে এ বছরের শান্তিতে নোবেল পুরস্কারের সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে ক্যাথলিক খ্রিষ্টানদের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা পোপ লিওর নামও আলোচনায় রয়েছে।
আরএস-রাসেল
No comments yet. Be the first to comment!