আন্তর্জাতিক

হুথি গোষ্ঠীর পতনই আমাদের মূল লক্ষ্য: ইয়েমেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

আপডেট: অক্টো ০৯, ২০২৬ : ০৫:২৬ এএম ৪ ০
হুথি গোষ্ঠীর পতনই আমাদের মূল লক্ষ্য: ইয়েমেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

ইয়েমেনে ইরানের মদতপুষ্ট হুথি বিদ্রোহী গোষ্ঠীর চূড়ান্ত পতন ঘটানো এবং পুরো দেশে রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করাই সরকারের মূল লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আফরাহ আল-জৌবা। তিনি বলেছেন, শান্তির প্রতি ইয়েমেনের সরকারের অঙ্গীকার রয়েছে। তবে রাষ্ট্রের কর্তৃত্বকে চ্যালেঞ্জ করে এমন সশস্ত্র গোষ্ঠীর হাতে অস্ত্র রাখার সুযোগ দিয়ে শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।

সম্প্রতি লন্ডনভিত্তিক আরবি দৈনিক আশরাক আল-আওসাতকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন আফরাহ আল-জৌবা। ইয়েমেনে চলমান সংঘাত, হুথি বিদ্রোহীদের মোকাবিলা এবং কৌশলগত বাব আল-মান্দেব প্রণালির নিরাপত্তা নিয়ে কথা বলেন তিনি।

সাক্ষাৎকারে ইয়েমেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা শান্তিকে পরিত্যাগ করিনি, তবে শান্তির সেই বিভ্রমকে ত্যাগ করেছি, যা রাষ্ট্রবিরোধীদের হাতে অস্ত্র রাখার অনুমতি দেয়। বর্তমানে আমাদের মূল লক্ষ্য হলো ইয়েমেনে হুথি বিদ্রোহীদের চূড়ান্ত পতন ঘটানো এবং সমগ্র ইয়েমেনে রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা।’

তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রের ওপর ইয়েমেনের জনগণের অধিকার কোনো সশস্ত্র গোষ্ঠীর ইচ্ছার ওপর নির্ভর করে স্থগিত থাকতে পারে না।

যেভাবে শুরু সংঘাত

ইয়েমেনে সরকারি বাহিনী ও হুথি বিদ্রোহীদের মধ্যে সংঘাতের সূত্রপাত ২০১৪ সালে। ওই বছর গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ২০১৫ সালে রাজধানী সানা দখল করে নেয় হুথি গোষ্ঠী। এর পর তৎকালীন প্রেসিডেন্ট আবদরাব্বুহ মনসুর হাদি সৌদি আরবে আশ্রয় নেন। তাঁর নেতৃত্বাধীন সরকারকে পুনরায় ক্ষমতায় প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ওই বছর ইয়েমেনে সামরিক অভিযান শুরু করে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট।

বর্তমানে রাজধানী সানাসহ ইয়েমেনের উত্তরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা হুথি গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত প্রেসিডেন্সিয়াল কাউন্সিলের সরকার দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় কর্তৃত্ব বজায় রেখেছে।

বাব আল-মান্দেব প্রণালির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ

ইয়েমেনের চলমান সংঘাতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে বাব আল-মান্দেব প্রণালির নিরাপত্তা। লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরকে সংযুক্ত করা এই কৌশলগত জলপথ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আফরাহ আল-জৌবা বলেন, বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে দেশি-বিদেশি জাহাজের অবাধ চলাচল নিশ্চিত করার বিষয়টি ইয়েমেনের রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।

তিনি বলেন, ‘বাব আল-মান্দেব প্রণালির নিরাপত্তা ইয়েমেনের উপকূল থেকেই শুরু হয়। যতক্ষণ পর্যন্ত স্থলভাগকে এই প্রণালির জন্য হুমকির উৎস হিসেবে ব্যবহার করা হবে, ততক্ষণ সমুদ্রে জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রচেষ্টা অসম্পূর্ণ থেকে যাবে।’

সৌদি আরবের সহায়তার প্রশংসা

হুথি গোষ্ঠীর উত্থানের পর থেকে ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের পাশে রয়েছে সৌদি আরব। সাক্ষাৎকারে সৌদি আরবের রাজনৈতিক, সামরিক ও অর্থনৈতিক সহায়তার প্রশংসা করেন ইয়েমেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ইয়েমেনে চলমান অভিযানের সাফল্য শুধু কতগুলো শহর পুনরুদ্ধার করা হয়েছে, তা দিয়ে বিচার করা যাবে না। বরং কতজন নাগরিক তাঁদের নিরাপত্তা ফিরে পেয়েছেন এবং কতটি পরিবার নিজেদের বাড়িঘরে ফিরতে পেরেছে, তার ভিত্তিতেই সাফল্য মূল্যায়ন করতে হবে।

সূত্র: আরব নিউজ

আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!