ইরানে চলমান যুদ্ধের অবসান ঘটাতে তেহরানকে সব ধরনের সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত মস্কো। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানকে এ আশ্বাস দিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) মধ্য এশিয়ার দেশ তুর্কমেনিস্তানে দুই নেতার দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা হয়। কমনওয়েলথ অব ইনডিপেনডেন্ট স্টেটসের (সিআইএস) সম্মেলনে যোগ দিতে তাঁরা দেশটিতে গেছেন। বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
সম্মেলনে বক্তব্য দিতে গিয়ে পুতিন বলেন, ‘এই যুদ্ধ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে ইরানের জন্য আমাদের সাধ্যের মধ্যে যা কিছু করা সম্ভব, আমরা তা করতে প্রস্তুত। কারণ, আমরা দেখেছি, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা শুরুর পর থেকে ইরান যুদ্ধের অবসান ঘটাতে প্রকৃত প্রচেষ্টা চালিয়ে আসছে।’
এ সময় ইরান ও রাশিয়ার সম্পর্কের ইতিবাচক অগ্রগতির কথাও তুলে ধরেন পুতিন। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে দেশ দুটি কূটনৈতিক ও সামরিক সম্পর্ক জোরদার করেছে। পাশাপাশি সামরিক সহযোগিতা, অর্থনীতি ও বাণিজ্যসহ বিভিন্ন খাতে তাদের পারস্পরিক নির্ভরতা বেড়েছে। উভয় দেশই যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞার মুখে রয়েছে।
শুক্রবার তুর্কমেনিস্তানের কাস্পিয়ান সাগরের তীরবর্তী অবকাশকেন্দ্র আভাজায় সিআইএসের সম্মেলন শুরু হওয়ার কথা। এর আগে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তুর্কমেনিস্তানে পৌঁছান পুতিন ও পেজেশকিয়ান।
গত সেপ্টেম্বরে কিরগিজস্তানে সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনের (এসসিও) সম্মেলনের ফাঁকে সর্বশেষ বৈঠক করেছিলেন দুই প্রেসিডেন্ট।
এদিকে ইউক্রেন ও পশ্চিমা দেশগুলোর অভিযোগ, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে তেহরান মস্কোকে শাহেদ ড্রোন ও স্বল্পপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করছে। অন্যদিকে, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনা ও লক্ষ্যবস্তুতে হামলার জন্য ইরানকে লক্ষ্যবস্তুসংক্রান্ত তথ্য সরবরাহের অভিযোগ রয়েছে রাশিয়ার বিরুদ্ধে।
তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে আলোচনা যখন অচলাবস্থার মুখে, তখনই পুতিন ও পেজেশকিয়ানের এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হলো। চলতি সপ্তাহে পেজেশকিয়ান বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা ‘অর্থহীন’।
সূত্র: এএফপি
আরএস-রাসেল
No comments yet. Be the first to comment!