ভারতের নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ার প্রতিবাদ এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনের সময় আটক ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) তিন শীর্ষ নেতাকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। তাঁরা হলেন অভিজিৎ দীপকে, আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাস।
রোববার (১১ অক্টোবর) দিল্লি ক্যান্টনমেন্ট থানায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করার পর তাঁদের মুক্তি দেওয়া হয়। সিজেপির আইনবিষয়ক প্রধান রত্না সিং এ তথ্য জানিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে, এক বছরের জন্য শান্তি ভঙ্গ হতে পারে—এমন কোনো কাজে জড়িত না থাকার শর্তে তাঁদের জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।
তিন নেতার মুক্তির খবর জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিয়েছে সিজেপি। দলটি লিখেছে, ‘অবশেষে দিল্লি পুলিশ অভিজিৎ দীপকে, আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাসকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়েছে।’ পোস্টে আরও বলা হয়, ‘ককরোচরা কখনো মরে না।’
ভোটার তালিকা পুনর্নিরীক্ষণ বা স্পেশাল ইন্টেনসিভ রিভিশন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দুই দিনের আন্দোলনের ডাক দিয়েছিল দলটি। এর দ্বিতীয় দিন রোববার সকালে তিন নেতাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এর আগে শনিবার আন্দোলনের প্রথম দিন দিল্লি বিমানবন্দরে একটি ফ্লাইট থেকে তাঁদের পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছিল।
আন্দোলন ঘিরে দিল্লির কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী যন্তর মন্তরে যাওয়ার সব পথ বন্ধ করে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নেয় পুলিশ। এতে সেখানে মূল জমায়েত ভেস্তে যায়। পরে বিক্ষোভকারীরা শহরের বিভিন্ন স্থানে ছোট ছোট দলে বিভক্ত হয়ে প্রতিবাদ জানান।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রাজনীতিক ও সমাজকর্মীসহ তিন হাজারের বেশি আন্দোলনকারীকে আটক করা হয়। তাঁদের বড় একটি অংশকে রাতেই ছেড়ে দেওয়া হয়। মুক্তি পাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ছিলেন জনপ্রিয় ইউটিউব অ্যাক্টিভিস্ট ধ্রুব রাঠী। তিনি বিরোধী দল কংগ্রেসের নেতা রাহুল গান্ধীর সমর্থক এবং ক্ষমতাসীন এনডিএ সরকারের সমালোচক হিসেবে পরিচিত।
সূত্র: এনডিটিভি
আরএস-রাসেল
No comments yet. Be the first to comment!