আন্তর্জাতিক

আগামী ১৫ বছরে ৮০ কোটি তরুণের কর্মসংস্থান হবে না: ইউএনডিপি

আপডেট: অক্টো ১৪, ২০২৬ : ০৫:০৩ এএম ৬ ০
আগামী ১৫ বছরে ৮০ কোটি তরুণের কর্মসংস্থান হবে না: ইউএনডিপি

আগামী ১৫ বছরে উন্নয়নশীল দেশগুলোর শ্রমবাজারে প্রবেশ করতে যাওয়া প্রায় ১২০ কোটি তরুণের মধ্যে ৮০ কোটিই কর্মসংস্থান পাবে না। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় এখনই নীতিগত পরিবর্তন ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি)।

সংস্থাটির প্রশাসক আলেকজান্ডার ডি ক্রু বলেছেন, এখনই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না নিলে তরুণদের কর্মসংস্থানের সংকট নিজে থেকে সমাধান হবে না।

মঙ্গলবার জাতিসংঘের সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত নিয়মিত মধ্যাহ্নকালীন সংবাদ সম্মেলনে ভার্চ্যুয়ালি অংশ নিয়ে তিনি এ সতর্কবার্তা দেন। থাইল্যান্ডের ব্যাংককে বিশ্বব্যাংক গ্রুপ ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বার্ষিক সভার সাইডলাইন থেকে তিনি এ ব্রিফিংয়ে যুক্ত হন।

ব্রিফিংয়ে ইউএনডিপির নতুন নীতিগত প্রতিবেদন ‘নো টাইম টু রিকভার’-এর মূল বিষয়গুলো তুলে ধরেন ডি ক্রু। বৈশ্বিক জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও প্রযুক্তির পরিবর্তিত পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, উন্নয়নশীল দেশগুলোর অধিকাংশ মানুষের বয়স ১৮ থেকে ২৫ বছরের মধ্যে। এই বিপুল তরুণ জনগোষ্ঠীর জন্য কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা বড় চ্যালেঞ্জ।

ঋণের সুদ পরিশোধে বাড়ছে চাপ

ডি ক্রু বলেন, বর্তমানে উন্নয়নশীল দেশগুলো উচ্চ ঋণ পরিশোধ, তীব্র এল নিনো এবং জ্বালানি সংকটের মতো একাধিক সংকটের মুখোমুখি। এসব চাপ দেশগুলোর অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির সক্ষমতাকে বাধাগ্রস্ত করছে।

ইউএনডিপি প্রশাসক জানান, মধ্যম আয়ের উন্নয়নশীল দেশগুলো বর্তমানে তাদের মোট রাজস্বের ৯ দশমিক ৫ শতাংশ ঋণের সুদ পরিশোধে ব্যয় করছে। উচ্চ আয়ের দেশগুলোর তুলনায় এই হার তিন গুণ এবং গত ২৫ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।

এ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে বিশ্বজুড়ে আরও ১৩ কোটি মানুষ চরম দারিদ্র্যের শিকার হতে পারে বলে সতর্ক করেন তিনি।

কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে নতুন উদ্যোগ

কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগ বাড়াতে দুটি নতুন বৈশ্বিক উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন ডি ক্রু। ব্যাংককে বিশ্বব্যাংক গ্রুপ, ইউরোপীয় বিনিয়োগ ব্যাংক এবং ইউরোপীয় পুনর্গঠন ও উন্নয়ন ব্যাংকের অংশীদারত্বে ইউএনডিপির ‘ইনভেস্টমেন্ট অ্যাক্সিলারেটর’ ও ‘জবস ফর প্রসপারিটি ফ্যাসিলিটি’ উদ্যোগের আনুষ্ঠানিক লোগো ও স্লাইড উন্মোচন করা হয়।

ইতিমধ্যে নেপাল, ইয়েমেন, হাইতি, লেবানন ও ঘানায় এসব উদ্যোগের পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলে ব্রিফিংয়ে জানানো হয়।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও জলবায়ু ঝুঁকি

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) প্রভাব নিয়ে প্রশ্নের জবাবে ডি ক্রু বলেন, প্রযুক্তির প্রসার ঘটলেও সেবা, কৃষি ও পর্যটনের মতো শ্রমঘন খাতে বিপুল কর্মসংস্থান সৃষ্টির সুযোগ রয়েছে।

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিমা খাতে বাড়তে থাকা ঝুঁকির বিষয়েও কথা বলেন তিনি। ২০১৫ সালে এশিয়ায় প্রাকৃতিক দুর্যোগে ৬৫ বিলিয়ন ডলারের অর্থনৈতিক ক্ষতির বিপরীতে মাত্র ৫ বিলিয়ন ডলারের বিমা সুরক্ষা ছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি। এ পরিস্থিতিতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে সুরক্ষার আওতায় আনার ওপর গুরুত্ব দেন ইউএনডিপি প্রশাসক।

টেকসই কর্মসংস্থানের বিকল্প নেই

ব্রিফিংয়ের শেষ পর্যায়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি সংহতি ও সমন্বিত বৈশ্বিক পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান ডি ক্রু।

তিনি বলেন, মানুষকে বহুমাত্রিক দারিদ্র্য থেকে বের করে আনতে বিশ্বজুড়ে টেকসই কর্মসংস্থান সৃষ্টির কোনো বিকল্প নেই। তরুণদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়াতে এখনই কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!