ব্যস্ত জীবনে প্রতিদিন সকালের নাস্তায় নতুন কিছু তৈরি করা অনেকের জন্যই কঠিন। তাই কেউ কেউ দিনের পর দিন একই খাবার খান। এতে কি শরীরের কোনো ক্ষতি হয়?
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিদিন একই নাস্তা খাওয়াটা নিজে থেকে ক্ষতিকর নয়। বরং নাস্তায় প্রয়োজনীয় পুষ্টি থাকলে এটি সময় বাঁচাতে এবং নিয়মিত খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলতে সহায়ক হতে পারে। তবে একই খাবারে পুষ্টির বৈচিত্র্য কম থাকলে দীর্ঘমেয়াদে সমস্যা তৈরি হতে পারে।
একই নাস্তা খাওয়ার একটি সুবিধা হলো, প্রতিদিন খাবার পরিকল্পনা করার ঝামেলা কমে যায়। পাশাপাশি খাবারের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করাও সহজ হয়। কিন্তু নাস্তায় যদি নিয়মিত অতিরিক্ত চিনি ও পরিশোধিত কার্বোহাইড্রেট থাকে এবং প্রোটিন ও ফাইবারের পরিমাণ কম থাকে, তাহলে তা স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
নাস্তায় বৈচিত্র্য আনবেন যেভাবে
প্রতিদিন সম্পূর্ণ ভিন্ন নাস্তা খাওয়ার প্রয়োজন নেই। বরং একটি স্বাস্থ্যকর কাঠামো তৈরি করে তার উপাদানগুলো সময় সময় পরিবর্তন করা যেতে পারে।
যেমন, নাস্তায় গোটা শস্যের সঙ্গে ডিম, দই, পনির, টোফু বা ডালের মতো প্রোটিনের উৎস রাখা যেতে পারে। এর সঙ্গে ফল বা সবজি এবং বাদাম বা বীজ যোগ করা যায়।
প্রতিদিন নাস্তা বদলানোর চেয়ে সপ্তাহজুড়ে খাবারের বৈচিত্র্য নিশ্চিত করাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এক দিন যে ফল খাচ্ছেন, অন্য দিন অন্য কোনো ফল; একইভাবে শস্য ও প্রোটিনের উৎসেও পরিবর্তন আনা যেতে পারে।
সকালের নাস্তা কতটা গুরুত্বপূর্ণ
২০২৪ সালে The Journal of Nutrition, Health & Aging-এ প্রকাশিত একটি গবেষণায় সকালের খাবারের গুণমান ও পরিমাণের সঙ্গে সামগ্রিক স্বাস্থ্যের সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, সকালের নাস্তায় পুষ্টিকর খাবার রাখা স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে পারে।
গবেষণায় দৈনিক মোট ক্যালরির প্রায় ২০ থেকে ৩০ শতাংশ সকালের খাবারে গ্রহণের বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে। তবে শুধু কত ক্যালরি খাওয়া হচ্ছে তা নয়, খাবারের গুণমানও গুরুত্বপূর্ণ।
অতিরিক্ত পরিমাণে নাস্তা খাওয়ার পাশাপাশি অতিরিক্ত চিনি, পরিশোধিত শস্য বা কম পুষ্টিকর খাবার নিয়মিত খেলে তা স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের জন্য উপকারী নয়। অন্যদিকে, পরিমিত পরিমাণে প্রোটিন, ফাইবার, স্বাস্থ্যকর চর্বি, ফল ও সবজি সমৃদ্ধ নাস্তা দিনের খাদ্যতালিকাকে আরও ভারসাম্যপূর্ণ করতে পারে।
তাই প্রতিদিন একই নাস্তা খাওয়ার অভ্যাস থাকলেও তাতে প্রয়োজনীয় পুষ্টি নিশ্চিত করা জরুরি। একই খাবার খেতে চাইলে সেটিকে আরও পুষ্টিকর করা এবং সপ্তাহজুড়ে বিভিন্ন ধরনের ফল, সবজি, শস্য ও প্রোটিনের উৎস যোগ করাই হতে পারে স্বাস্থ্যকর পথ।
আরএস-রাসেল
No comments yet. Be the first to comment!