লাইফস্টাইল

স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার পরও ওজন বেড়ে যাচ্ছে? জেনে নিন ৭ কারণ

আপডেট: সেপ্টে ২৪, ২০২৬ : ০৫:৫৭ এএম ৭ ০
স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার পরও ওজন বেড়ে যাচ্ছে? জেনে নিন ৭ কারণ

স্বাস্থ্যকর খাবার খেলেই যে ওজন কমতে শুরু করবে, এমন নয়। বাড়িতে রান্না করা খাবার, ফল ও শাকসবজি বেশি খাওয়া কিংবা ফাস্ট ফুড এড়িয়ে চলার পরও কারও কারও ওজন বাড়তে পারে। এর পেছনে খাবারের পরিমাণ, শারীরিক কার্যকলাপ, ঘুম, মানসিক চাপ, হরমোন কিংবা কিছু স্বাস্থ্যগত কারণও ভূমিকা রাখতে পারে।

স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার পরও ওজন বাড়ার সম্ভাব্য সাতটি কারণ জেনে নেওয়া যাক।

১. খাবারের পরিমাণ বেশি হয়ে যাচ্ছে

স্বাস্থ্যকর খাবারও অতিরিক্ত পরিমাণে খেলে ওজন বাড়তে পারে। বাদাম, বীজ, পিনাট বাটার, অ্যাভোকাডো, গোটা শস্য, পনির ও রান্নার তেলের মতো খাবার পুষ্টিকর হলেও এগুলোতে ক্যালোরির পরিমাণ তুলনামূলক বেশি।

যেমন সালাদে বেশি বাদাম বা ড্রেসিং যোগ করলে খাবারটি স্বাস্থ্যকর হলেও মোট ক্যালোরির পরিমাণ বেড়ে যেতে পারে। তাই শুধু কী খাচ্ছেন, তা নয়—কতটা খাচ্ছেন, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। ধীরে খাওয়া এবং ক্ষুধা ও পেট ভরে যাওয়ার অনুভূতির দিকে খেয়াল রাখা অতিরিক্ত খাওয়া কমাতে সাহায্য করতে পারে।

২. স্বাস্থ্যকর নাস্তাও বেশি হয়ে যেতে পারে

গ্রানোলা, প্রোটিন বার, স্মুদি, শুকনো ফল ও দইয়ের মতো খাবার পুষ্টিকর হতে পারে। তবে এগুলোতেও প্রত্যাশার চেয়ে বেশি ক্যালোরি থাকতে পারে।

সারাদিনে বারবার অল্প অল্প করে নাস্তা করলে মোট ক্যালোরি গ্রহণ বেড়ে যেতে পারে। তাই খাওয়ার আগে নিজেকে প্রশ্ন করা যেতে পারে—সত্যিই ক্ষুধা লেগেছে, নাকি একঘেয়েমি, মানসিক চাপ কিংবা হাতের কাছে খাবার থাকার কারণে খাচ্ছেন?

৩. আগের চেয়ে কম নড়াচড়া করছেন

ওজন নিয়ন্ত্রণে শুধু খাবারের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ নয়, দৈনন্দিন শারীরিক কার্যকলাপও গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত ব্যায়াম করলেও দিনের বেশির ভাগ সময় বসে থাকা, গাড়িতে যাতায়াত কিংবা দীর্ঘ সময় সোফায় কাটানোর কারণে মোট শারীরিক কার্যকলাপ কমে যেতে পারে।

বেশি হাঁটা, সিঁড়ি ব্যবহার, ঘরের কাজ করা এবং দীর্ঘ সময় বসে থাকার মধ্যে নিয়মিত বিরতি নেওয়ার মতো ছোট ছোট অভ্যাস দৈনন্দিন নড়াচড়া বাড়াতে সাহায্য করতে পারে।

৪. পর্যাপ্ত ঘুম হচ্ছে না

ঘুমের অভাব ওজন নিয়ন্ত্রণকে কঠিন করে তুলতে পারে। পর্যাপ্ত ঘুম না হলে ক্ষুধা ও তৃপ্তির সঙ্গে সম্পর্কিত হরমোনে পরিবর্তন হতে পারে। এতে ক্ষুধা বাড়ার পাশাপাশি বেশি ক্যালোরিযুক্ত খাবারের প্রতি আগ্রহও তৈরি হতে পারে।

এ ছাড়া ঘুম কম হলে দিনের বেলা ক্লান্তি বাড়তে পারে, ফলে শারীরিক কার্যকলাপও কমে যেতে পারে। তাই স্বাস্থ্যকর খাবার ও ব্যায়ামের পাশাপাশি নিয়মিত ঘুমের অভ্যাসও জরুরি।

৫. মানসিক চাপের প্রভাব

দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপও ওজনের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। কেউ কেউ মানসিক চাপে বেশি খাবার খান, বিশেষ করে চর্বি, চিনি বা ক্যালোরি বেশি থাকা খাবার। আবার স্ট্রেসের কারণে ঘুমের সমস্যা কিংবা ব্যায়ামের আগ্রহ কমে যেতে পারে।

মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত শারীরিক কার্যকলাপ, পর্যাপ্ত ঘুম, পছন্দের কাজে সময় দেওয়া, সামাজিক যোগাযোগ ও রিলাক্সেশন কৌশল কাজে আসতে পারে।

৬. হরমোন বা শারীরিক সমস্যাও কারণ হতে পারে

ক্রমাগত ওজন বাড়ার পেছনে কখনো কখনো কোনো শারীরিক সমস্যাও থাকতে পারে। যেমন থাইরয়েডের কার্যকারিতা কমে গেলে ক্লান্তি, ঠান্ডা লাগা, কোষ্ঠকাঠিন্য ও ওজন বাড়ার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে।

এ ছাড়া কিছু হরমোনজনিত সমস্যা এবং নির্দিষ্ট কিছু ওষুধ—যেমন কিছু অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট, স্টেরয়েড ও ডায়াবেটিসের ওষুধ—ওজনের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

ওজন যদি ক্রমাগত ও অস্বাভাবিকভাবে বাড়তে থাকে এবং এর সঙ্গে অন্য কোনো উপসর্গ দেখা দেয়, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

৭. ওজন মাপার যন্ত্র পুরো চিত্র দেখায় না

প্রতিদিনের ওজন সব সময় শরীরের প্রকৃত পরিবর্তনকে তুলে ধরে না। শরীরে পানি জমা, বেশি লবণ খাওয়া, হরমোনের ওঠানামা, কোষ্ঠকাঠিন্য কিংবা পরিপাকতন্ত্রে খাবার থাকার কারণে ওজন সাময়িকভাবে বাড়তে পারে।

আবার শক্তি প্রশিক্ষণ শুরু করলে শরীরের চর্বি কমার পাশাপাশি পেশি বাড়তে পারে। ফলে শরীরের গঠন বদলালেও ওজন খুব বেশি পরিবর্তিত নাও হতে পারে।

তাই শুধু ওজন মাপার যন্ত্রের সংখ্যার দিকে না তাকিয়ে কোমরের মাপ, পোশাকের ফিটিং, শারীরিক সক্ষমতা এবং দীর্ঘমেয়াদি ওজনের প্রবণতার দিকেও নজর দেওয়া যেতে পারে।

শুধু খাবার নয়, আরও অনেক কিছুই গুরুত্বপূর্ণ

স্বাস্থ্যকর খাবার সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ। তবে ওজনের ওপর খাবারের পরিমাণ, নাস্তা, শারীরিক কার্যকলাপ, ঘুম, মানসিক চাপ, ওষুধ, শারীরিক সমস্যা ও শরীরের গঠনের পরিবর্তন—সবকিছুরই প্রভাব থাকতে পারে।

তাই স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার পরও ওজন বাড়লে শুধু খাবারকে দায়ী না করে জীবনযাপনের অন্যান্য দিকও বিবেচনা করা প্রয়োজন।

আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!