ময়মনসিংহ

আনন্দমোহন বসুকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে হবে : এমপি ওয়াহাব

আপডেট: সেপ্টে ২৪, ২০২৬ : ০৫:১৯ এএম ২৩ ০
আনন্দমোহন বসুকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে হবে : এমপি ওয়াহাব

বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির বিভাগীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ এমপি বলেছেন, ময়মনসিংহকে শিক্ষার নগরী হিসেবে প্রতিষ্ঠার পেছনে যে কজন মনীষী অসামান্য অবদান রেখেছেন, আনন্দমোহন বসু তাঁদের অন্যতম। 

অন্ধকারাচ্ছন্ন সমাজকে শিক্ষার আলোয় আলোকিত করার পথ দেখিয়েছেন তিনি। কৃতজ্ঞতাবোধ থেকেই আনন্দমোহন বসুর জীবন, কর্ম ও আদর্শ নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে হবে।

বুধবার বিকেলে আনন্দমোহন বসুর ১৮০তম জন্মদিন উপলক্ষে ময়মনসিংহ সিটি কলেজিয়েট স্কুল আয়োজিত শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, আলোচনা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, আমরা ময়মনসিংহবাসী আনন্দমোহন বসুর প্রতি কৃতজ্ঞ। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, নতুন প্রজন্মের কাছে আমরা তাকে তার প্রাপ্য মর্যাদায় তুলে ধরতে পারিনি। তাই আনন্দমোহন বসুকে আমাদের স্মরণে ফিরিয়ে আনতে হবে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায়। তার জীবন, কর্ম ও আদর্শ সম্পর্কে নতুন প্রজন্মকে জানাতে হবে।

আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ এমপি বলেন, ময়মনসিংহকে শিক্ষার নগরী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে যেকজন ব্যক্তি অপরিসীম অবদান রেখেছেন, আনন্দমোহন বসু তাদের অন্যতম। শিক্ষা বিস্তারের মাধ্যমে একটি পশ্চাৎপদ সমাজকে এগিয়ে নেওয়ার যে উদ্যোগ তিনি নিয়েছিলেন, তা আজও ময়মনসিংহের শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে গভীরভাবে প্রভাব বিস্তার করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, আনন্দমোহন বসুর মতো মনীষীদের অবদান কেবল স্মরণসভা বা জন্মদিন পালনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে হবে না। তাদের জীবন ও চিন্তাকে নতুন প্রজন্মের শিক্ষা, মূল্যবোধ ও মানবিক চেতনার সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোকে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে।

অনুষ্ঠানে আনন্দমোহন বসু স্মৃতি পরিষদের আহ্বায়ক কবি ও গল্পকার তাহমিনা রহমান বলেন, আনন্দমোহন বসু শুধু ময়মনসিংহের নয়, সমগ্র বাংলার শিক্ষা, সমাজসংস্কার ও মানবিক অগ্রযাত্রার এক উজ্জ্বল নাম। তার জীবন ও কর্ম নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার মধ্য দিয়ে শুধু একজন মনীষীকে স্মরণ করা নয়, শিক্ষা, মানবিকতা ও সমাজকল্যাণের একটি আদর্শকেও সামনে নিয়ে আসা সম্ভব। তার স্মৃতি ও আদর্শ সংরক্ষণে ভবিষ্যতেও বিভিন্ন সৃজনশীল ও শিক্ষামূলক কর্মসূচি অব্যাহত রাখার কথা জানান তিনি।

কবি, প্রাবন্ধিক ও সাংবাদিক স্বাধীন চৌধুরী বলেন, আনন্দমোহন বসুকে শুধু একটি নাম হিসেবে স্মরণ করলে হবে না, তাকে জানতে হবে তার কর্মের মধ্য দিয়ে। যে মানুষ একটি সমাজের অন্ধকারে শিক্ষার আলো জ্বালিয়েছেন, নতুন প্রজন্মের কাছে তার সবচেয়ে বড় পরিচয় হওয়া উচিত সেই আলোকবর্তিকার।

সিটি কলেজিয়েট স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুল মান্নানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভা সঞ্চালনা করেন ময়মনসিংহ সিটি কলেজিয়েট স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সদস্য, কবি ও সংগঠক আলী ইউসুফ। তিন শতাধিক ক্ষুদে চিত্রশিল্পীর স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। পরে প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।

আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!