জাতীয়

দেশের উন্নয়নে সরকারি কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে: বিমানমন্ত্রী

আপডেট: সেপ্টে ০১, ২০২৬ : ০৫:৩৮ এএম ৩৩ ০
দেশের উন্নয়নে সরকারি কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে: বিমানমন্ত্রী

দেশের উন্নয়ন ও জনকল্যাণ নিশ্চিত করতে সরকারি কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিদের সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত।

আজ সোমবার ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আইনশৃঙ্খলা, মাদক নিয়ন্ত্রণ, সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন নিয়ে আয়োজিত সমন্বয় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।

‘প্রধানমন্ত্রী ১৪ থেকে ১৮ ঘণ্টা কাজ করেন’

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কর্মস্পৃহার প্রসঙ্গ তুলে ধরে বিমানমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী প্রতিদিন ১৪ থেকে ১৮ ঘণ্টা কাজ করেন। তিনি যদি এত দীর্ঘ সময় কাজ করতে পারেন, তাহলে অন্যরাও কেন পারবেন না—এ প্রশ্ন নিজেদের বিবেকের কাছে করতে হবে।

তিনি বলেন, নিজেদের দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে সচেতন হয়ে কর্মস্পৃহা নিয়ে কাজ করলে দেশের উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা সম্ভব।

‘আগের সরকারের সময়ের মনোভাব বাদ দিতে হবে’

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশত্যাগের প্রসঙ্গ তুলে ধরে এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, অতীতের ঘটনা থেকে শিক্ষা নিতে হবে। আগের সরকারের সময় যেভাবে প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করা হয়েছে, সেই মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।

তিনি সরকারি কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, অতীতে যা হয়েছে, তা আর করা যাবে না। পুরোনো মানসিকতা বাদ দিয়ে নতুনভাবে কাজ শুরু করতে হবে। দায়িত্ব পালনে গাফিলতি হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিমানমন্ত্রী বলেন, সরকার দেশকে উন্নত করতে চায়। আগের সরকারের সময়ে দেশকে ভঙ্গুর করে দেওয়া হয়েছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে প্রত্যেককে নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে হবে।

তিনি বলেন, প্রতিবেশী অনেক দেশ উন্নতির শিখরে পৌঁছেছে। নেতৃত্বের অভাবে বাংলাদেশ পিছিয়ে ছিল। এখন প্রধানমন্ত্রী দেশকে উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিতে কাজ করছেন।

মাদক নির্মূলে ‘জিরো টলারেন্স’

প্রশাসনের কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিদের উদ্দেশে বিমানমন্ত্রী বলেন, সারা দেশে মাদকের বিস্তার ঘটেছে। মাদক নির্মূলে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে। এ ক্ষেত্রে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

তিনি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, সুশাসন নিশ্চিত করা এবং সরকারি কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেন।

সভায় যাঁরা ছিলেন

জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য দেন ময়মনসিংহ সদর আসনের সংসদ সদস্য আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ, মুক্তাগাছা আসনের সংসদ সদস্য জাকির হোসেন বাবলু, ঈশ্বরগঞ্জ আসনের সংসদ সদস্য প্রকৌশলী লুৎফুল্লাহেল মাজেদ বাবু, গফরগাঁওয়ের সংসদ সদস্য আকতারুজ্জামান বাচ্চু এবং ফুলবাড়ীয়ার সংসদ সদস্য মোহাম্মদ কামরুল হাসান মিলন।

এ ছাড়া ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক রুকুনোজ্জামান রোকন, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ কামরুল হাসান, মহানগর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক শেখ আমজাদ আলীসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা বক্তব্য দেন।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রেজা মোহাম্মদ গোলাম মাসুম প্রধান এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক উম্মে হাবীবা মীরা যৌথভাবে সভা সঞ্চালনা করেন।

সভায় বিজিবি ময়মনসিংহ সেক্টরের পরিচালক বায়েজিদ, র‌্যাব কর্মকর্তা শামসুজ্জামান, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. আসাদুজ্জামানসহ জেলা পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!