প্রাণিসম্পদ খাতের উন্নয়নে বিজ্ঞানীদের গবেষণা ও উদ্ভাবনের যথাযথ মূল্যায়ন নিশ্চিত করা হবে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।
মঙ্গলবার মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএলআরআই) পরিচালনা বোর্ডের ৪৯তম সভায় তিনি এ কথা বলেন। সভায় বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে সভাপতিত্ব করেন মন্ত্রী।
মন্ত্রী বলেন, গবেষণা ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে দেশের প্রাণিসম্পদ খাতকে এগিয়ে নিতে বিজ্ঞানীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। তাঁরা মেধা, শ্রম, সময় ও নিষ্ঠা দিয়ে নতুন প্রযুক্তি ও জ্ঞান সৃষ্টি করছেন। এসব উদ্ভাবন ও গবেষণালব্ধ অর্জনের যথাযথ স্বীকৃতি না পেলে ভবিষ্যতে গবেষণার প্রতি আগ্রহ কমে যেতে পারে।
গবেষণার সুফল খামারিদের কাছে পৌঁছাতে হবে
মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, প্রাণিসম্পদ খাতের উৎপাদনশীলতা বাড়ানো, রোগ প্রতিরোধ, উন্নত জাত উদ্ভাবন, নিরাপদ প্রাণিজ আমিষ উৎপাদন এবং রপ্তানি সক্ষমতা বৃদ্ধিতে গবেষণার কোনো বিকল্প নেই।
গবেষণা কার্যক্রমকে আরও ফলপ্রসূ ও বাস্তবমুখী করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, গবেষণার সুফল যেন সরাসরি খামারি ও উদ্যোক্তারা পান, তা নিশ্চিত করতে হবে। গবেষণার মাধ্যমে উদ্ভাবিত প্রযুক্তি দ্রুত মাঠপর্যায়ে সম্প্রসারণের প্রয়োজন রয়েছে।
বিজ্ঞানীদের জন্য প্রণোদনা বাড়ানোর গুরুত্ব
মন্ত্রী বলেন, দেশের প্রাণিসম্পদ খাত বর্তমান অবস্থানে পৌঁছানোর পেছনে গবেষকদের দীর্ঘদিনের নিরলস পরিশ্রম রয়েছে। গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও কার্যকর ও যুগোপযোগী করতে প্রয়োজনীয় সহায়তা অব্যাহত থাকবে।
একই সঙ্গে উদ্ভাবনী গবেষণাকে উৎসাহিত করতে বিজ্ঞানীদের জন্য প্রণোদনা ও স্বীকৃতির সুযোগ বাড়ানোর বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
সভায় পটুয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য এ বি এম মোশাররফ হোসেন, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব ও বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান মো. দেলোয়ার হোসেন, পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য (সচিব) মো. মাহমুদুল হোসাইন খান, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম সরদারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় বিএলআরআইয়ের বিভিন্ন প্রশাসনিক, আর্থিক ও গবেষণাসংক্রান্ত বিষয় পর্যালোচনা করা হয়। প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম আরও গতিশীল ও ফলপ্রসূ করতে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনাও দেওয়া হয়।
আরএস-রাসেল
No comments yet. Be the first to comment!