জাতীয়

পিপিআর-এফএমডি নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত বৈশ্বিক উদ্যোগ জরুরি: সুলতান সালাউদ্দিন টুকু

আপডেট: সেপ্টে ২৩, ২০২৬ : ০৫:১২ এএম ৮ ০
পিপিআর-এফএমডি নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত বৈশ্বিক উদ্যোগ জরুরি: সুলতান সালাউদ্দিন টুকু

ছাগল ও ভেড়ার ভাইরাসজনিত রোগ পিপিআর এবং গবাদিপশুর ক্ষুরা রোগ এফএমডি দীর্ঘমেয়াদে নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূলে সমন্বিত বৈশ্বিক উদ্যোগ প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।

তিনি বলেন, সীমান্ত অতিক্রমকারী প্রাণীরোগ নিয়ন্ত্রণ কোনো একক দেশের পক্ষে সম্ভব নয়। এ জন্য বিশ্ব প্রাণিস্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউওএএইচ), জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও), উন্নয়ন সহযোগী এবং আঞ্চলিক দেশগুলোর মধ্যে টেকসই অর্থায়ন, কারিগরি সহায়তা ও শক্তিশালী সহযোগিতা জরুরি।

ইতালির রোমে এফএও আয়োজিত ‘গ্লোবাল কনফারেন্স ফর অ্যাকশন অন ওয়ান হেলথ ইন এগ্রোফুড সিস্টেমস’-এর একটি সাইড ইভেন্টে ‘ওয়ান হেলথ এবং সীমান্ত অতিক্রমকারী প্রাণীরোগ প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূলের মাধ্যমে কৃষি-খাদ্য ব্যবস্থার রূপান্তর’ শীর্ষক আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন।

পিপিআর নির্মূলে বাংলাদেশের লক্ষ্য ২০৩০

সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, পিপিআর ও এফএমডি নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। ডব্লিউওএএইচ বিশেষ করে সীমান্তবর্তী এলাকায় জোরালো টিকাদান ও সক্রিয় নজরদারির সুপারিশ করেছে। এসব কার্যক্রম বাস্তবায়নের মাধ্যমে ২০৩০ সালের মধ্যে পিপিআরমুক্ত মর্যাদা অর্জনে বাংলাদেশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

তিনি বলেন, ডব্লিউওএএইচের বৈশ্বিক কৌশল এবং ২০২৪–২০২৮ মেয়াদের জাতীয় কৌশলগত পরিকল্পনার আওতায় দেশজুড়ে ছাগল ও ভেড়ার পিপিআর টিকাদান কার্যক্রম চলছে। নজরদারিতে কোনো প্রাদুর্ভাব শনাক্ত না হওয়ায় ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে পিপিআর নির্মূল কর্মসূচির ডসিয়ার ডব্লিউওএএইচের কাছে জমা দিয়েছে বাংলাদেশ।

এফএমডি নিয়ন্ত্রণে সাত ধাপের টিকাদান

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘প্রগ্রেসিভ কন্ট্রোল পাথওয়ে’ অনুসরণ করে ২০২৫–২০২৮ মেয়াদের এফএমডি নিয়ন্ত্রণ কৌশল প্রণয়ন করেছে বাংলাদেশ। ইতিমধ্যে লক্ষ্যভিত্তিক এফএমডি টিকাদানের ছয়টি ধাপ সম্পন্ন হয়েছে, সপ্তম ধাপ চলছে।

নিরাপদ ও টেকসই মাংস রপ্তানির ভিত্তি তৈরি করতে এফএমডিমুক্ত অঞ্চল প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই এসব কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

এফএওর কারিগরি সহায়তায় এফএমডির জন্য ক্লিনিক্যাল ম্যানেজমেন্ট গাইডলাইন এবং প্রাণীরোগের প্রাদুর্ভাব তদন্ত ও প্রতিক্রিয়া বিষয়ে একটি ফিল্ড ম্যানুয়ালও তৈরি করা হয়েছে।

এফএমডির নতুন সেরোটাইপ নিয়ে উদ্বেগ

সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, এফএমডির এসএটি-১ সেরোটাইপের বিস্তার নিয়ে বিশ্বব্যাপী উদ্বেগ বাড়ছে। বাংলাদেশে এখনো এই সেরোটাইপ শনাক্ত হয়নি। তবে আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক সীমান্ত পারাপার, প্রাণিসম্পদের চলাচল, প্রাণিসম্পদ-সম্পর্কিত উপকরণ আমদানি এবং ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে পশুর চলাচল বেড়ে যাওয়ায় এর প্রবেশের ঝুঁকি রয়েছে।

প্যানেল আলোচনায় তানজানিয়ার প্রধানমন্ত্রী মুইগুলু লামেক নচেম্বা, চাদের প্রাণিসম্পদমন্ত্রী আবদেরাহিম আওয়াত আবেইথ, ক্যামেরুনের প্রাণিসম্পদ, মৎস্য ও প্রাণী শিল্পবিষয়ক মন্ত্রী তাইগা, নাইজেরিয়ার প্রাণিসম্পদ উন্নয়নবিষয়ক মন্ত্রী ইদি মুখতার মাইহা, মঙ্গোলিয়ার খাদ্য, কৃষি ও হালকা শিল্প মন্ত্রণালয়ের স্টেট সেক্রেটারি জামবালসেরেন তুমুর-উয়া এবং আফ্রিকান ইউনিয়ন কমিশনের ড. ওয়ার্কনেহ গেবেয়েহুসহ বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি ও আন্তর্জাতিক সংস্থার কর্মকর্তারা অংশ নেন।

আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!