জরুরি পরিস্থিতিতে ঝুঁকি আগাম শনাক্ত, প্রশমন ও প্রতিরোধের মাধ্যমে সহনশীল কৃষিখাদ্য ব্যবস্থা ও টেকসই জীবিকা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু।
মঙ্গলবার ইতালির রাজধানী রোমে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) প্লেনারি হলে আয়োজিত ‘ওয়ান হেলথ ফর এ বেটার লাইফ: ফ্রম ইমার্জেন্সি প্রিপেয়ার্ডনেস অ্যান্ড রেসপন্স টু রেজিলিয়েন্ট অ্যাগ্রিফুড সিস্টেমস অ্যান্ড সাসটেইনেবল লাইভলিহুডস’ শীর্ষক অধিবেশনে মূল বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
‘ওয়ান হেলথ’ নীতি থেকে কার্যক্রমে রূপ দেওয়ার আহ্বান
আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, জরুরি পরিস্থিতিতে শুধু প্রতিক্রিয়া জানানোর পরিবর্তে ‘ওয়ান হেলথ’কে নীতি থেকে কার্যক্রমে রূপ দিতে হবে। এটি কেবল স্বাস্থ্য খাতের কোনো কর্মসূচি নয়; স্বাস্থ্য নিরাপত্তা, পরিবেশগত স্থায়িত্ব, খাদ্যনিরাপত্তা, সহনশীল জীবিকা ও টেকসই উন্নয়নকে একসূত্রে যুক্ত করার একটি সমন্বিত পদ্ধতি।
তিনি বলেন, মানুষ ও প্রাণীর স্বাস্থ্য, প্রতিবেশ ও পরিবেশ পরস্পরের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। একটি ক্ষেত্রে তৈরি হওয়া ঝুঁকি দ্রুত অন্য ক্ষেত্রগুলোকেও প্রভাবিত করতে পারে। বাংলাদেশের খাদ্য ও জীবিকা ব্যবস্থা কৃষি, প্রাণিসম্পদ, মৎস্য ও প্রাকৃতিক সম্পদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত।
জলবায়ু পরিবর্তনেও বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি
মন্ত্রী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন, পরিবেশের অবক্ষয় ও জীববৈচিত্র্যের ক্ষতির কারণে নতুন নতুন স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। তাই জলবায়ু সহনশীলতাকে স্বাস্থ্য সহনশীলতার অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।
এ জন্য জলবায়ু অভিযোজন, দুর্যোগ প্রস্তুতি, প্রতিবেশ পুনরুদ্ধার, জনগোষ্ঠীর সহনশীলতা ও প্রকৃতিনির্ভর সমাধানকে ‘ওয়ান হেলথ’ অগ্রাধিকারের সঙ্গে যুক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
বাংলাদেশের ‘ওয়ান হেলথ’ কৌশল
বাংলাদেশের উদ্যোগ তুলে ধরে আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, ২০১২ সালে গৃহীত জাতীয় ‘ওয়ান হেলথ’ কৌশলগত কাঠামোর ধারাবাহিকতায় তৃতীয় ‘ওয়ান হেলথ’ কৌশলগত কাঠামো ২০২৫–২০৩০ প্রণয়ন করা হয়েছে। আন্তমন্ত্রণালয় সমন্বয় ব্যবস্থা ও ‘ওয়ান হেলথ’ সেক্রেটারিয়েট বিভিন্ন খাতের মধ্যে সহযোগিতা, তথ্য বিনিময় ও সমন্বিত পদক্ষেপের প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করছে।
এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা ও কোভিড-১৯ মহামারির অভিজ্ঞতা উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রস্তুতি কোনো চূড়ান্ত গন্তব্য নয়। পরিবর্তনশীল ঝুঁকির সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রস্তুতি ব্যবস্থাকেও এগিয়ে নিতে হবে।
এ জন্য সমন্বিত নজরদারি ও আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা, জৈবনিরাপত্তা, পরীক্ষাগার ও মাঠপর্যায়ের সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি রোগের উদ্ভবের পরিবেশগত, প্রতিবেশগত ও আর্থসামাজিক কারণ সম্পর্কে গভীর ধারণা প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
জাতীয় সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছে জরুরি পরিস্থিতির ঝুঁকি
মন্ত্রী বলেন, বর্তমান বিশ্বের জরুরি পরিস্থিতির ঝুঁকি জাতীয় সীমা অতিক্রম করছে। কার্যকর প্রস্তুতির জন্য সরকারব্যাপী সমন্বয়, বহুখাতীয় সহযোগিতা এবং শক্তিশালী আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক অংশীদারত্ব প্রয়োজন।
এফএওসহ আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক অংশীদারদের সহযোগিতার প্রশংসা করে তিনি মহামারি প্রতিরোধ ও প্রস্তুতিকে সহনশীল কৃষিখাদ্য ব্যবস্থা, টেকসই জীবিকা, পরিবেশগত স্থায়িত্ব ও জলবায়ু সহনশীলতার সঙ্গে যুক্ত করার আহ্বান জানান।
একই সঙ্গে দেশনির্ভর সমাধান, জাতীয় সক্ষমতা শক্তিশালীকরণ এবং বৈশ্বিক জ্ঞানকে স্থানীয় পর্যায়ে প্রয়োগের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। ‘ওয়ান হেলথ’কে নীতি থেকে কার্যক্রম এবং কার্যক্রম থেকে পরিমাপযোগ্য ফলে রূপ দিতে সব অংশীদারকে বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান পরিবেশমন্ত্রী।
আরএস-রাসেল
No comments yet. Be the first to comment!