জাতীয়

বোয়িংয়ের সঙ্গে ১১টি বিমান কেনার চুক্তি হয়েছে: মাহদী আমিন

আপডেট: সেপ্টে ২৪, ২০২৬ : ০৪:৫২ এএম ১৭ ০
বোয়িংয়ের সঙ্গে ১১টি বিমান কেনার চুক্তি হয়েছে: মাহদী আমিন

বাংলাদেশের জাতীয় পতাকাবাহী বিমান সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের কাছ থেকে আরও ১১টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন। নতুন উড়োজাহাজ দিয়ে বিমান পরিবহন খাত সম্প্রসারণ ও নতুন আন্তর্জাতিক রুট চালুর পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি।

স্থানীয় সময় বুধবার নিউইয়র্কের গ্র্যান্ড হায়াত হোটেলে এক সংবাদ সম্মেলনে মাহদী আমিন এ তথ্য জানান। বোয়িংও এক বিবৃতিতে ১১টি উড়োজাহাজের অর্ডারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। নতুন অর্ডারে পাঁচটি ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার ও ছয়টি ৭৩৭-৮ উড়োজাহাজ রয়েছে।

মাহদী আমিন বলেন, ‘বোয়িংয়ের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস আরও ১১টি বোয়িং বিমান কেনার বিষয়ে চুক্তি করেছে।’

তিনি বলেন, বাংলাদেশের বিমান পরিবহন খাত সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করেই নতুন উড়োজাহাজ কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন নতুন রুট চালুর পরিকল্পনা রয়েছে, তাই বাড়তি উড়োজাহাজ প্রয়োজন।

বোয়িংয়ের অর্ডার বেড়ে ২৫

চলতি বছরের এপ্রিলে বোয়িংয়ের সঙ্গে ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি করেছিল বিমান। ওই চুক্তির মূল্য ছিল প্রায় ৩৭০ কোটি মার্কিন ডলার। নতুন ১১টি উড়োজাহাজ যুক্ত হওয়ায় বোয়িংয়ের কাছ থেকে বিমানের পরিকল্পিত উড়োজাহাজ কেনার সংখ্যা দাঁড়াল ২৫টিতে।

মাহদী আমিন বলেন, বোয়িংয়ের সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে। তবে ভবিষ্যতে দেশের প্রয়োজন অনুযায়ী ইউরোপের উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এয়ারবাসের সঙ্গেও আলোচনা হতে পারে।

বোয়িংয়ের প্রতিনিধিদল পরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছে বলেও জানান তিনি।

রোহিঙ্গা সংকটে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার আহ্বান

সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ সফরের বিভিন্ন কর্মসূচির কথাও তুলে ধরেন মাহদী আমিন। তিনি বলেন, সফরের দ্বিতীয় দিনে স্বাস্থ্য, কৃষি, রোহিঙ্গা সংকট, জলবায়ু পরিবর্তন, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কসহ বিভিন্ন বিষয়ে একাধিক বৈঠক হয়েছে।

গেটস ফাউন্ডেশনের সঙ্গে বৈঠকে স্বাস্থ্য ও কৃষি খাতে সহযোগিতা বাড়ানো, কৃষিতে প্রযুক্তির ব্যবহার, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং বাংলাদেশে টিকা উৎপাদনের সক্ষমতা তৈরির বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি।

রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে বাংলাদেশ ও গাম্বিয়ার যৌথ উদ্যোগে জাতিসংঘের সাইডলাইনে একটি অনুষ্ঠান হয়েছে। সেখানে নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরা হয়েছে।

মাহদী আমিন বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গা অবস্থান করছে। তাঁদের জন্য আন্তর্জাতিক সহায়তা কমে আসায় বাংলাদেশের ওপর চাপ বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও সহযোগিতা প্রয়োজন।

মধ্যপ্রাচ্যে শান্তিপূর্ণ সমাধানের পক্ষে বাংলাদেশ

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মাহদী আমিন বলেন, বাংলাদেশ শান্তিপূর্ণ সমাধানের পক্ষে। প্রয়োজনে বন্ধুত্বপূর্ণ ও নিরপেক্ষ অবস্থান থেকে সংলাপের সুযোগ তৈরিতে বাংলাদেশ ভূমিকা রাখতে পারে।

তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার রয়েছে। সংঘাতের কারণে জ্বালানি, বাণিজ্য ও বাংলাদেশি প্রবাসীদের ওপর যে প্রভাব পড়ছে, তা বিবেচনায় নিয়ে শান্তিপূর্ণ সমাধানের প্রয়োজনীয়তার কথা আলোচনায় তুলে ধরা হয়েছে।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে চীন ও ভারতের ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশ দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয়—উভয় পর্যায়েই সংশ্লিষ্ট দেশ ও অংশীদারদের সঙ্গে যোগাযোগ করছে। চীন বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন অংশীদার এবং রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে দেশটির সঙ্গে উচ্চপর্যায়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।

মাহদী আমিন বলেন, ‘কূটনীতিতে সব দরজা এবং সব বিকল্প খোলা রাখতে হয়। আলোচনার পথ কখনো বন্ধ করা যায় না।’

জলবায়ু অর্থায়নের বিষয়েও আলোচনা

জলবায়ু পরিবর্তন প্রসঙ্গে মাহদী আমিন বলেন, জলবায়ুঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য জলবায়ু অর্থায়ন নিশ্চিত করার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেছেন।

কার্বন নিঃসরণ কমাতে নদী-খাল খনন, বৃক্ষরোপণ, নবায়নযোগ্য ও সৌর জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো এবং বৈদ্যুতিক যানবাহন ব্যবহারের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরা হয়েছে বলে জানান তিনি।

এ ছাড়া ক্রোয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও অভিবাসনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের সম্পর্ক আরও জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গেও প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক হয়েছে বলে জানান মাহদী আমিন।

প্রধানমন্ত্রীর চার দিনের জাতিসংঘ সফরের আরও দুই দিনের কর্মসূচি রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, পরদিন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী বাংলায় বক্তব্য দেবেন।

আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!