জাতীয়

ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ ও টেকসই বিশ্ব গড়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

আপডেট: সেপ্টে ২৪, ২০২৬ : ০৪:৫৭ এএম ২১ ০
ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ ও টেকসই বিশ্ব গড়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আরও নিরাপদ ও টেকসই বিশ্ব গড়ে তুলতে বিশ্বনেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় জলবায়ুঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য সুলভ ও পূর্বানুমেয় অর্থায়ন নিশ্চিত করা, বৈশ্বিক উষ্ণতা ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সীমিত রাখা এবং জলবায়ু-স্মার্ট প্রযুক্তিতে প্রবেশাধিকার বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

স্থানীয় সময় বুধবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের ট্রাস্টিশিপ কাউন্সিলে ‘ক্লাইমেট অ্যাকশন অ্যান্ড দ্য জাস্ট ট্রানজিশন’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের সভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের উদ্যোগে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আসুন, আমরা একসঙ্গে কাজ করি এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আরও নিরাপদ ও টেকসই ভবিষ্যৎ গড়ে তুলি।’

বাংলাদেশের ঝুঁকির কথা তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রী

তারেক রহমান বলেন, বিশ্বের মোট গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণে বাংলাদেশের অবদান শূন্য দশমিক ৫ শতাংশেরও কম। অথচ জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ দেশ।

তিনি বলেন, চলতি শতাব্দীর শেষ নাগাদ সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকার ১২ থেকে ১৮ শতাংশ পানিতে তলিয়ে যেতে পারে। এতে কোটি কোটি মানুষের জীবিকা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি খাদ্যনিরাপত্তাও গুরুতর ঝুঁকির মুখে পড়বে।

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশে ইতিমধ্যে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ১ শতাংশের সমান হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, চলতি বাজেটে জলবায়ু অভিযোজনের জন্য প্রায় ৩ দশমিক ১৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বরাদ্দ রাখা হয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক সহায়তা ছাড়া বড় ধরনের ক্ষতির ঝুঁকি এড়ানো কঠিন।

২৫ কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনা

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় বাংলাদেশের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী পাঁচ বছরে দেশে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

পানি সংরক্ষণ, বন্যার ঝুঁকি কমানো, জলাভূমি পুনরুজ্জীবন ও ভূগর্ভস্থ পানির পুনর্ভরণের লক্ষ্যে প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল খননের কাজ চলছে। পাশাপাশি পদ্মা ব্যারাজ ও তিস্তা ব্যারাজের মাস্টার প্ল্যান বাস্তবায়নের কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের বিদ্যুতের চাহিদার ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে পূরণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি পাটজাত পণ্য, পরিবেশবান্ধব পরিবহন, বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদন ও সার্কুলার অর্থনীতির উদ্যোগসহ সবুজ শিল্পের প্রসারে কাজ চলছে। একটি জাতীয় কার্বন বাজার গড়ে তোলার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

জলবায়ু মোকাবিলায় পাঁচ পদক্ষেপ

জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় পাঁচটি জরুরি পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রথমত, প্যারিস চুক্তির লক্ষ্য অনুযায়ী বৈশ্বিক উষ্ণতা ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সীমিত রাখতে গ্রিনহাউস গ্যাসের নিঃসরণ কমাতে হবে।

দ্বিতীয়ত, জলবায়ুঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য অভিযোজন খাতে পূর্বানুমেয় ও সুলভ অর্থায়ন নিশ্চিত করতে হবে।

তৃতীয়ত, জলবায়ু-স্মার্ট প্রযুক্তিতে আরও বেশি প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করে ন্যায়সংগত ও সমতাভিত্তিক জলবায়ু উত্তরণের পথ তৈরি করতে হবে।

চতুর্থত, সুলভ অর্থায়ন, সক্ষমতা বৃদ্ধি ও প্রযুক্তি হস্তান্তরের মাধ্যমে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে হবে।

পঞ্চমত, ক্ষয়ক্ষতি ও লোকসান তহবিলের পূর্ণ বাস্তবায়ন এবং নিয়মিত অর্থ পুনঃপূরণের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এসব লক্ষ্য এককভাবে বাংলাদেশের পক্ষে অর্জন করা সম্ভব নয়। ‘অভিন্ন কিন্তু পৃথক দায়িত্ব ও নিজ নিজ সক্ষমতা’ নীতির ভিত্তিতে সম্মিলিত পদক্ষেপ প্রয়োজন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ তার জলবায়ু পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সহায়তা করবে—এমন অংশীদারত্ব প্রত্যাশা করে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে বর্তমানে নিউইয়র্কে রয়েছেন। ২৪ সেপ্টেম্বর সাধারণ বিতর্কে তিনি বাংলাদেশের পক্ষে বক্তব্য দেবেন।

আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!