দেশের পর্যটন খাতে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ‘বাংলাদেশ পর্যটন পুরস্কার ২০২৬’ পেয়েছেন জনপ্রিয় ট্রাভেল ভ্লগার ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর আবু মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন। ‘সালাহউদ্দীন সুমন’ নামে পরিচিত এই কনটেন্ট ক্রিয়েটরকে ‘বর্ষসেরা ট্যুরিজম কনটেন্ট ক্রিয়েটর’ ক্যাটাগরিতে পুরস্কৃত করেছে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড।
শনিবার (৩ অক্টোবর) বিকেলে ঢাকার শেরেবাংলা নগরের বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তাঁর হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।
অ্যান্টার্কটিকা, আমাজন ও আর্কটিকসহ বিশ্বের দুর্গম বিভিন্ন গন্তব্যে ভ্রমণের অভিজ্ঞতা ভিডিওতে তুলে ধরেছেন সালাহউদ্দীন সুমন। পাশাপাশি বাংলাদেশের ইতিহাস, প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন, ঐতিহাসিক স্থাপনা, বৈচিত্র্যময় ভূপ্রকৃতি ও গ্রামবাংলার জীবনযাত্রা নিয়ে তাঁর তৈরি ভিডিও দেশ-বিদেশে দর্শকদের প্রশংসা পেয়েছে।
পুরস্কার পাওয়ার অনুভূতি জানিয়ে সালাহউদ্দীন সুমন বলেন, দেশের পর্যটন খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড। একটি সরকারি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান থেকে সম্মাননা পাওয়া একজন কনটেন্ট ক্রিয়েটরের জন্য আনন্দ ও গর্বের বিষয়। রাষ্ট্রীয় পর্যায় থেকে পাওয়া এই স্বীকৃতি তাঁর কাছে বিশেষভাবে ভালো লেগেছে।
বাংলাদেশের পর্যটনের সম্ভাবনা তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশের জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে সেন্টমার্টিন, কক্সবাজার ও সাজেকের মতো কয়েকটি জায়গার নামই সাধারণত সামনে আসে। তবে বিভিন্ন অব্যবস্থাপনার কারণে এসব স্থানে বিদেশি পর্যটকদের আগ্রহ কমছে। তাঁর মতে, সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে গ্রামবাংলাকে পর্যটনের নতুন সম্ভাবনা হিসেবে তুলে ধরা সম্ভব।
সুমন বলেন, গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ, শীত ও বসন্ত—প্রতিটি ঋতুতে বাংলাদেশের গ্রাম ভিন্ন রূপ ধারণ করে। এই ঋতুবৈচিত্র্য ও গ্রামীণ জীবনকে পর্যটনের সঙ্গে যুক্ত করে বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরতে হবে। বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের এই আয়োজন শুধু পুরস্কার দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের পর্যটন সম্ভাবনা তুলে ধরার কার্যকর উদ্যোগে পরিণত হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, দেশের পর্যটনকেন্দ্রগুলোর উন্নয়নে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বে কাজ করার সুযোগ রয়েছে। উদ্যোক্তারা এগিয়ে এলে সরকার পিপিপি মডেল বা লিজিংয়ের মাধ্যমে পর্যটনকেন্দ্রগুলোর উন্নয়নে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী বলেন, পর্যটন খাতের উন্নয়নে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি খাত ও তরুণ উদ্যোক্তাদের সমন্বিত অংশগ্রহণ প্রয়োজন।
বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ব্যারিস্টার মুতাসিম বিল্লাহ ফারুকী বলেন, বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরতে ট্যুরিজম বোর্ড কাজ করছে। পর্যটন খাতের উদ্যোক্তা, উদ্ভাবক ও কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের স্বীকৃতি দিয়ে উৎসাহিত করাই ‘বাংলাদেশ পর্যটন পুরস্কার ২০২৬’-এর অন্যতম উদ্দেশ্য।
অনুষ্ঠানে ইউএন ট্যুরিজমের মহাসচিব শাইখা নাসের আল নোয়াইস এবং প্যাসিফিক এশিয়া ট্রাভেল অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নূর আহমেদ হামিদ ভিডিও বার্তার মাধ্যমে শুভেচ্ছা জানান। এ ছাড়া বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. সামীমুজ্জামান, ট্যুরিস্ট পুলিশের প্রধানসহ পর্যটন খাতের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।
বিশ্ব পর্যটন দিবস ২০২৬ উপলক্ষে দেশের পর্যটন শিল্পে টেকসই উন্নয়ন, সেবার মানোন্নয়ন, উদ্ভাবন, ডিজিটাল রূপান্তর, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ এবং পরিবেশ ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এ পুরস্কার দেওয়া হয়। সরকারি-বেসরকারি অংশীজনের সমন্বয়ে গঠিত জুরি বোর্ডের যাচাই-বাছাই শেষে মোট ১৬টি ক্যাটাগরিতে ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও উদ্যোগকে এ সম্মাননা দেওয়া হয়েছে।
বর্ষসেরা ট্যুরিজম কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে সালাহউদ্দীন সুমনের পাশাপাশি বর্ষসেরা টেকসই পর্যটন উদ্যোগ হিসেবে ‘শাকাওয়াথ’স সিক্স কন্ট্রোল পয়েন্ট ফর ফুড কস্ট’, বর্ষসেরা পাঁচ তারকা হোটেল হিসেবে ইন্টারকন্টিনেন্টাল ঢাকা এবং পর্যটনবিষয়ক সাংবাদিকতায় নাঈম উল ইসলাম পুরস্কার পেয়েছেন।
আরএস-রাসেল
No comments yet. Be the first to comment!