রাজনীতি

দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থাসহ সব প্রতিষ্ঠানই বিধ্বস্ত অবস্থায়: জামায়াত আমির

আপডেট: অক্টো ০৪, ২০২৬ : ০৬:০৫ এএম ৫ ০
দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থাসহ সব প্রতিষ্ঠানই বিধ্বস্ত অবস্থায়: জামায়াত আমির

দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থাসহ প্রায় সব প্রতিষ্ঠানই বিধ্বস্ত অবস্থায় রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, ব্যাংক, বিমা, করপোরেশন ও পুঁজিবাজারের অবস্থাও ভালো নয়। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।

আজ রোববার রাজধানীর মধুবাগ খেলার মাঠে জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত ‘৪–১০ অক্টোবর দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা সপ্তাহ’ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন ডা. শফিকুর রহমান।

তিনি বলেন, ‘দেশ আমাদের সবার। আমরা বিরোধী দলে থাকলেও আমরা দায়িত্বহীন নই। আমাদেরও দায়িত্ব আছে।’

‘আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি খুবই উদ্বেগজনক’

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশে শুধু স্বাস্থ্যব্যবস্থা নয়, কার্যত সব প্রতিষ্ঠানই এখন বিধ্বস্ত অবস্থায় আছে। রাজধানীতে দিনে-দুপুরে ও রাতে বিভিন্ন অপকর্মের ঘটনা ঘটছে। সরকারের কেন্দ্রীয় অবস্থান রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি থেকেই সারা দেশের অবস্থা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সম্প্রতি ঢাকার বিমানবন্দরে এক বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক সংসদ সদস্যের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার প্রসঙ্গও তুলে ধরেন জামায়াত আমির। তিনি অভিযোগ করেন, বিমানবন্দরে লাগেজ পেতে ওই ব্যক্তিকে তিন ঘণ্টার বেশি অপেক্ষা করতে হয়েছে।

জামায়াতের ৩৪ জন সংসদ সদস্য ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বিমানবন্দরে ‘অশুভ আচরণ’ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

বিমানবন্দরের ওই ঘটনার প্রতিবাদ করায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করার সমালোচনা করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, মামলায় শারীরিকভাবে নাজেহাল করার যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তা ‘১০০০ ভাগ মিথ্যা’। তিনি দাবি করেন, ওই ব্যক্তি কারও গায়ে হাত তোলেননি।

একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে হাতকড়া পরানো ও হেলমেট পরানোরও সমালোচনা করেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, ‘আমরা নিন্দা জানাই।’

সরকারকে সতর্ক করলেন জামায়াত আমির

একটি মেডিকেল সেন্টারে হামলা ও ভাঙচুরের প্রসঙ্গ তুলে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে না পারলেও একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রকে রাস্তার অন্ধকারে ভেঙে চুরমার করে দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।

তিনি বলেন, জনগণকে বোকা বা অন্ধ ভাবা যাবে না। এখন কোনো ঘটনা আড়াল করার সময় নেই। মুহূর্তের মধ্যে সবকিছু মানুষের কাছে পৌঁছে যায়।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে টিকা আনার দাবি

ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ডেঙ্গুর আগে হামেও অনেক মানুষের মৃত্যু হয়েছে। সংসদে এসব বিষয়ে কথা বলার সময় দেশের সমস্যাগুলোকে যথাযথভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

ডেঙ্গুর টিকা বিশ্ববাজারে রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকারিভাবে টিকা আনার জন্য অর্থের সংকট থাকলে বেসরকারি খাতের মাধ্যমে টিকা আনার সুযোগ দেওয়া উচিত। এতে মানুষ অন্তত রোগ প্রতিরোধের একটি উপায় পাবে।

জামায়াত আমির বলেন, ডেঙ্গুকে তাঁরা মহামারির মতো দেখছেন। এ কারণে ৪ থেকে ১০ অক্টোবর পর্যন্ত ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা সপ্তাহ পালন করা হচ্ছে। শুধু লিফলেট বিতরণ নয়, জনগণকে সচেতন করার পাশাপাশি ডেঙ্গু প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখার কথাও জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, মশার প্রজননস্থল হিসেবে চিহ্নিত খাল, বদ্ধ নালা ও অন্যান্য স্থান পরিষ্কার করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আক্রান্ত ব্যক্তিদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করা এবং চিকিৎসায় কোনো ধরনের অবহেলা না করার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘দায়িত্ব পালন করলে সাধুবাদ জানাবো। না করলে অবশ্যই জনগণকে সঙ্গে নিয়ে তা মোকাবিলা করা হবে।’

অনুষ্ঠানে জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় ও মহানগর পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!