রাজনীতি

সম্পদ সীমিত হলেও শিক্ষকদের সুযোগ-সুবিধায় কার্পণ্য করবে না সরকার: এলজিআরডি মন্ত্রী

আপডেট: অক্টো ০৭, ২০২৬ : ০৪:৩৩ এএম ৪ ০
সম্পদ সীমিত হলেও শিক্ষকদের সুযোগ-সুবিধায় কার্পণ্য করবে না সরকার: এলজিআরডি মন্ত্রী

দেশের সম্পদ সীমিত হলেও শিক্ষকদের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে সরকার কোনো কার্পণ্য করবে না বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান। তিনি বলেন, শিক্ষকদের কল্যাণ ও ন্যায্য দাবিগুলো সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে। একই সঙ্গে তাঁদের পেশাগত স্বাধীনতা ও মর্যাদার বিষয়টিও গুরুত্ব দিতে হবে।

মঙ্গলবার নরসিংদীর পলাশ উপজেলা মাল্টিপারপাস অডিটোরিয়ামে ‘জাতীয় শিক্ষক দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শিক্ষকদের চাকরি জাতীয়করণের দাবির প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, “আমি নিজেও একজন শিক্ষক। তাই আপনাদের দাবির সঙ্গে সম্পূর্ণ একমত।”

তবে চাকরি জাতীয়করণ করা হলে শিক্ষকেরা সরকারি কর্মচারীতে পরিণত হবেন এবং এর সঙ্গে বদলি, প্রশাসনিক দায়িত্বসহ বিভিন্ন বিষয় যুক্ত হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি। এ কারণে জাতীয়করণের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবও বিবেচনা করা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন ড. মঈন খান।

ধাপে ধাপে বেড়েছে সরকারি সহায়তা

বেসরকারি শিক্ষকদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির ইতিহাস তুলে ধরে এলজিআরডি মন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার পর দেশের অধিকাংশ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ই ছিল বেসরকারি। ব্যক্তি ও সমাজের দানশীল মানুষের সহযোগিতায় এসব প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হতো। পরে শিক্ষকদের বেতন-ভাতায় সরকারি সহায়তা ধাপে ধাপে বাড়ানো হয়।

তিনি বলেন, ১৯৮০ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বেসরকারি স্কুলের শিক্ষকদের বেতনের ৫০ শতাংশ সরকারি অর্থায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। পরে ১৯৯১ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সরকার শিক্ষকদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধির দাবির পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষা কমিশন গঠন করে। ওই কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে শিক্ষকদের জন্য সরকারি সহায়তা আরও বাড়ানো হয়।

মন্ত্রী জানান, ২০০১ সালে বেসরকারি স্কুলের শিক্ষকদের বেতনের শতভাগ সরকারি অর্থায়নের ব্যবস্থা করা হয়। এর ফলে বর্তমানে দেশের বিপুলসংখ্যক বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক সরকারি সহায়তার আওতায় রয়েছেন।

নারী শিক্ষায় অগ্রগতির কথা তুলে ধরেন মন্ত্রী

নারী শিক্ষার প্রসঙ্গ তুলে ধরে ড. মঈন খান বলেন, প্রায় ৩৫ বছর আগে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া প্রথমে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত এবং পরে দশম শ্রেণি পর্যন্ত মেয়েদের বিনামূল্যে শিক্ষার ব্যবস্থা করেছিলেন। এর ফলে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে মেয়েদের অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়।

বর্তমানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে নারী শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ব্যাপক উপস্থিতি ওই ধরনের দূরদর্শী সিদ্ধান্তের সুফল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

শিক্ষকদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, একজন শিক্ষকের দায়িত্ব সাধারণ সরকারি কর্মকর্তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, শিক্ষকেরাই দেশের তরুণ প্রজন্মকে গড়ে তোলেন। তাই নিজেদের পেশাগত স্বাধীনতা, মর্যাদা ও দায়িত্বের গুরুত্ব উপলব্ধি করে দেশ গঠনে শিক্ষকদের আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।

জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গড়ার ওপর গুরুত্ব

উন্নত দেশগুলোর উদাহরণ দিয়ে এলজিআরডি মন্ত্রী বলেন, একটি দেশের শক্তি শুধু সামরিক সক্ষমতা বা অর্থনৈতিক সম্পদের ওপর নির্ভর করে না। উন্নত শিক্ষাব্যবস্থা ও জ্ঞানভিত্তিক সমাজই একটি দেশকে দীর্ঘমেয়াদে শক্তিশালী করে।

বাংলাদেশকে উন্নত ও মর্যাদাশীল রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে তাই শিক্ষাব্যবস্থার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন খান ফাউন্ডেশন ও দ্য মিলেনিয়াম ইউনিভার্সিটির চেয়ারপারসন অ্যাডভোকেট রোখসানা খন্দকার। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পলাশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইশতিয়াক আহমেদ।

আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!