রাজনীতি

দেশবিরোধী চক্রান্তের কাছে জাতীয়তাবাদী শক্তি আত্মসমর্পণ করবে না: রিজভী

আপডেট: অক্টো ০৮, ২০২৬ : ০৬:১২ এএম ৩ ০
দেশবিরোধী চক্রান্তের কাছে জাতীয়তাবাদী শক্তি আত্মসমর্পণ করবে না: রিজভী

দেশবিরোধী যেকোনো চক্রান্ত ও আগ্রাসী শক্তির কাছে জাতীয়তাবাদী শক্তি কখনো আত্মসমর্পণ করবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও ভূখণ্ড রক্ষায় জাতীয়তাবাদী শক্তি শেষ রক্তবিন্দু পর্যন্ত লড়াই করে যাবে।

বুধবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে বুয়েট শিক্ষার্থী শহীদ আবরার ফাহাদের সপ্তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল আয়োজিত আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন রিজভী।

‘ভয় দেখিয়ে দেশপ্রেম থামানো যায় না’

রুহুল কবির রিজভী বলেন, বিগত সরকারের সময়ে দেশের সার্বভৌমত্বকে দুর্বল করে পার্শ্ববর্তী দেশের স্বার্থ রক্ষা করা হয়েছিল। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী প্রকাশ্যে বলেছিলেন, ভারতকে যা দেওয়া হয়েছে, তা তারা মনে রাখবে।

রিজভীর ভাষ্য, এই নতিস্বীকারের বিরুদ্ধে আবরার ফাহাদ সাহসী প্রতিবাদ গড়ে তুলেছিলেন। সেটিই তাঁর ‘অপরাধ’ হিসেবে দেখা হয়েছিল। তাঁকে হত্যার মাধ্যমে মূলত পুরো জাতিকে ভয় পাইয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল।

তিনি বলেন, আবরার ফাহাদের নির্মম হত্যাকাণ্ড পুরো জাতিকে কাঁদিয়েছিল এবং দেশপ্রেমিক মানুষকে জাগিয়ে তুলেছিল। সেই জাগরণের চূড়ান্ত পরিণতি ছিল ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলন এবং ৫ আগস্ট তৎকালীন সরকারের পতন।

আবরারের বাবার সঙ্গে স্মৃতিচারণ

অনুষ্ঠানে আবরার ফাহাদের বাবা বরকত উল্লাহর পাশে বসার কথা উল্লেখ করে আবেগাপ্লুত হওয়ার কথা জানান রিজভী।

তিনি বলেন, ‘অনুষ্ঠানে শহীদ আবরার ফাহাদের বাবার পাশে বসেছি। তাই আমি অত্যন্ত গর্ব ও আপ্লুত বোধ করেছি।’

রিজভী জানান, বরকত উল্লাহ তাঁকে বলেছেন, তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন এবং ১৯৯০ সালের রাকসু নির্বাচনে তাঁকে ভোট দিয়েছিলেন। এ কথা শুনে নিজের আবেগের কথা তুলে ধরেন রিজভী।

ছাত্রদলের ত্যাগের কথা স্মরণ

জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ত্যাগের কথা স্মরণ করে রিজভী বলেন, ছাত্রদল রাজপথে বারবার রক্তাক্ত হয়েছে। তবে খালেদা জিয়ার ‘আপসহীন’ রাজনৈতিক ধারাকে ধারণ করে তারা কোনো গোপন বা ছদ্মবেশী রাজনীতির আশ্রয় নেয়নি। রাজপথে আঘাত সহ্য করেই তারা নিজেদের স্বাধীন অস্তিত্ব টিকিয়ে রেখেছে।

বক্তব্যের শেষে শহীদ আবরার ফাহাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন তিনি। রিজভী বলেন, ‘বিনা যুদ্ধে নাহি দিব সূচ্যগ্র মেদিনী।’ আবরারের আত্মত্যাগ দেশের স্বার্থ বিকিয়ে দেওয়ার যেকোনো চক্রান্তের বিরুদ্ধে জাতিকে রুখে দাঁড়ানোর শিক্ষা দিয়েছে।

জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিবের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছিরের সঞ্চালনায় সভায় আরও বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ ড. এম জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, বিএনপির কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম, ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শ্যামল মালুম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি গনেশ চন্দ্র রায় সাহস, সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন এবং শহীদ আবরার ফাহাদের বাবা বরকত উল্লাহ।

সভায় ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ, ঢাকা কলেজ এবং ঢাকা মহানগর উত্তর, দক্ষিণ ও পূর্ব ইউনিটের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!