দেশের গ্যাসের উৎসগুলো কাজে লাগাতে স্থলভাগে (অনশোরে) মোট ১৫০টি গ্যাসকূপ খননের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এর অংশ হিসেবে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৩০টি কূপ খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে তিনটির খননকাজ চলছে বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি।
তিনি বলেন, দেশে গ্যাসের অনেক উৎস রয়েছে। সরকার এসব উৎস কাজে লাগাতে চায়। এ জন্য গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনে নিজেদের সক্ষমতা বাড়ানো হচ্ছে।
সোমবার ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশের (আইইউবি) বঙ্গোপসাগর গবেষণা কেন্দ্র আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিএমকে লেকচার গ্যালারিতে ‘বাংলাদেশের সুনীল অর্থনীতি খাতের উদীয়মান শিল্প নিয়ে পরিকল্পনাগত দৃষ্টিভঙ্গি’ শীর্ষক এ সেমিনারে সমুদ্রসম্পদ ব্যবস্থাপনা ও ব্লু ইকোনমির বিভিন্ন সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।
সমুদ্রাঞ্চলে গ্যাস অনুসন্ধানে নতুন চুক্তি
জোনায়েদ সাকি বলেন, সমুদ্রাঞ্চলে (অফশোরে) গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য নতুন উৎপাদন অংশীদারত্ব চুক্তি (প্রোডাকশন শেয়ারিং কন্ট্রাক্ট) হয়েছে। এ কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে জাতীয় স্বার্থ রক্ষাকে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার।
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে একটি সুনীল অর্থনীতি সেল রয়েছে। এ খাতে কাজ করা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় তৈরি করে সবাইকে একটি প্ল্যাটফর্মে আনার চেষ্টা চলছে।
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সুনীল অর্থনীতির আওতায় জাহাজ নির্মাণশিল্প, বন্দর ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়নসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ খাত চিহ্নিত করেছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।
বন্দর ও যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নে গুরুত্ব
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বন্দরগুলোর সঙ্গে দেশের উৎপাদনকেন্দ্রগুলোর যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। এ ক্ষেত্রে শুধু সড়ক যোগাযোগ নয়, রেল ও নৌপথের উন্নয়নেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে এক লাখ কোটি ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত করতে হলে সমুদ্রসম্পদ ব্যবস্থাপনাকে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। এ জন্য দক্ষ জনশক্তি তৈরি করা জরুরি। বিশ্ববিদ্যালয়, সরকারি প্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি খাতের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
জোনায়েদ সাকি বলেন, আইইউবি ও বঙ্গোপসাগর গবেষণা কেন্দ্র এ বিষয়ে কাজ করছে এবং সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করছে।
চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্য খালাসে দীর্ঘ সময়
সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আইইউবির ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য জাভেদ হোসেন বলেন, বাংলাদেশের অধিকাংশ কনটেইনার ওঠানো-নামানোর কাজ হয় চট্টগ্রাম বন্দরে। দেশে ২১ হাজার টন জ্বালানি তেলবাহী একটি জাহাজ থেকে তেল খালাস করতে তিন থেকে পাঁচ দিন সময় লাগে। অথচ সিঙ্গাপুরে একই কাজ করতে মাত্র চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা লাগে।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন আইইউবির উপাচার্য অধ্যাপক ম. তামিম। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গোপসাগর গবেষণা কেন্দ্রের পরিচালক অবসরপ্রাপ্ত রিয়ার অ্যাডমিরাল খুরশেদ আলম। তিনি বঙ্গোপসাগর, সুনীল অর্থনীতি এবং এ খাতের উদীয়মান শিল্পগুলোর ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠান শেষে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন আইইউবির স্কুল অব লিবারেল আর্টস অ্যান্ড সোশ্যাল সায়েন্সেসের ডিন অধ্যাপক বখতিয়ার আহমেদ। সেমিনারটি সঞ্চালনা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবিজ্ঞান ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষার্থী মারিয়াম বিনতে হাসান ফারিন।
আরএস-রাসেল
No comments yet. Be the first to comment!