সরকারি খাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহারে আস্থা তৈরি, সক্ষমতা বৃদ্ধি ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম।
তিনি বলেছেন, বর্তমান ডিজিটাল বিভাজন যেন ভবিষ্যতে এআই বিভাজনে রূপ না নেয়, সেটিই বাংলাদেশের অঙ্গীকার।
আজ মঙ্গলবার তুরস্কের ইস্তাম্বুলে ‘এআই গভর্নেন্স ইন প্র্যাকটিস: প্র্যাকটিক্যাল ইউজ কেসেস, ইনস্টিটিউশনাল ক্যাপাসিটি, ইনোভেশন অ্যাট স্কেল অ্যান্ড গ্লোবাল কো-অপারেশন’ শীর্ষক আন্তঃআঞ্চলিক সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে তিনি এসব কথা বলেন। কোরিয়া, তুরস্ক, আস্তানা সিভিল সার্ভিস হাব ও ইউএনডিপি যৌথভাবে সম্মেলনটির আয়োজন করেছে।
এআই ব্যবহারে দায়িত্বশীলতার ওপর জোর
ফকির মাহবুব আনাম বলেন, এআই আর শুধু ভবিষ্যতের প্রযুক্তি নয়। সরকারি সিদ্ধান্ত গ্রহণ, নাগরিক সেবা ও উন্নয়ন কার্যক্রমে এর প্রভাব ইতিমধ্যে দৃশ্যমান।
মন্ত্রী বলেন, কত দ্রুত এআই গ্রহণ করা হচ্ছে, শুধু সেটিই গুরুত্বপূর্ণ নয়; বরং কতটা প্রজ্ঞা, দায়িত্বশীলতা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে এ প্রযুক্তি পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে, সেটিই মূল বিষয়।
এআই সুশাসনের জন্য তিনি তিনটি মৌলিক বিষয়ের ওপর গুরুত্ব দেন—আস্থা ও বিশ্বাস, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা।
নতুন বৈষম্য তৈরি না করার আহ্বান
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বক্তব্য উদ্ধৃত করে তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী বলেন, এআই যেন নতুন কোনো বৈষম্য সৃষ্টি না করে। বরং বিদ্যমান বৈষম্য কমাতে এ প্রযুক্তিকে কাজে লাগাতে হবে।
এ জন্য প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষতা উন্নয়ন এবং সাশ্রয়ী মূল্যে আধুনিক প্রযুক্তির সুযোগ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
কেউ যেন পিছিয়ে না থাকে
মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, দুই দিনব্যাপী এ সম্মেলন উদ্ভাবন, আস্থা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রযুক্তির একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম তৈরি করবে, যেখানে কোনো দেশই পিছিয়ে থাকবে না।
এ উদ্যোগের প্রতি বাংলাদেশের দৃঢ় অঙ্গীকার ও সমর্থনের কথাও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
৬ ও ৭ অক্টোবর অনুষ্ঠেয় সম্মেলনে ককেশাস, মধ্য এশিয়া এবং এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশের মন্ত্রী ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ছাড়াও ইউএনডিপি এবং আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন।
আরএস-রাসেল
No comments yet. Be the first to comment!