ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) শাহ আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর আলমকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তাঁকে ডিএমপির সদরদপ্তর ও প্রশাসন বিভাগের কেন্দ্রীয় সংরক্ষণ দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়। অফিস আদেশে বলা হয়েছে, ঢাকায় কর্মরত নিরস্ত্র পুলিশ পরিদর্শক জাহাঙ্গীর আলমকে প্রশাসনিক কারণে ২৬ সেপ্টেম্বর অপরাহ্ণে ডিএমপির সদরদপ্তর ও প্রশাসন বিভাগের কেন্দ্রীয় সংরক্ষণ দপ্তরে সংযুক্ত করা হলো। আদেশটি অবিলম্বে কার্যকর হবে।
সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলার ঘটনা
এদিকে রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের ‘ব্রাউনফিশ স্টুডিওতে’ হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা নিয়ে আলোচনা চলছে। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
ডিএমপির গুলশান বিভাগের ক্যান্টনমেন্ট জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার নাজমুল হক বলেন, ঘটনাটি মূলত একটি জমি নিয়ে দুই পক্ষের বিরোধের জেরে ঘটেছে। এক পক্ষ নিজেদের জমিতে যেতে পারছিল না। পরে লোকজন নিয়ে সেখানে গেলে দুই পক্ষের বিরোধের মধ্যে সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও পড়ে যায়।
নাজমুল হক বলেন, ‘ওইখানে নিউ প্রপার্টি আছে, প্রপার্টি ওইখানে দুইটা পক্ষ আছে। ওইখানে আরেকজনের একটা জমি আছে। এক পক্ষ যেতে পারতেছে না। যে পক্ষ তার জমিতে যেতে পারছে না, তারা লোকজন নিয়ে আসছে যে গেট থেকে উনি ওনার জায়গায় যাবে। আর এই দুই পক্ষের ঝামেলার মধ্যে পড়ে গেছে সালমান মুক্তাদিরের এই স্টুডিও।’
তিনি আরও বলেন, ঘটনাটি অনাকাঙ্ক্ষিত। বিষয়টি নিয়ে পুলিশ কাজ করছে। হামলার ঘটনায় তিনজনকে দেশীয় অস্ত্রসহ আটক করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
চাঁদাবাজির অভিযোগ সালমানের
অন্যদিকে সালমান মুক্তাদির অভিযোগ করেছেন, বিএনপির লোকজন তাঁর কাছে চাঁদা দাবি করেছিলেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় প্রতিশোধ হিসেবে স্টুডিওতে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। এ অভিযোগের বিষয়ে বিএনপির সংশ্লিষ্ট কারও বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
ঘটনার সময় ঢাকায় ছিলেন না সালমান মুক্তাদির। খবর পেয়ে বিমানে ঢাকায় আসেন তিনি। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে স্টুডিওর ক্ষয়ক্ষতি দেখেন এবং ফেসবুক লাইভে বিষয়টি তুলে ধরেন।
স্টুডিওর এক কর্মকর্তা জানান, শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ জন হঠাৎ স্টুডিওতে ঢুকে ভাঙচুর শুরু করেন। তাঁদের কয়েকজনের হাতে চাপাতি ও আগ্নেয়াস্ত্র ছিল বলে দাবি করেন তিনি।
পরিস্থিতি আশঙ্কাজনক দেখে স্টুডিওতে থাকা কর্মকর্তারা টয়লেটে গিয়ে আত্মগোপন করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, হামলাকারীরা সেখানে গিয়েও অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তাঁদের কাছ থেকে মুঠোফোন ও মানিব্যাগ নিয়ে যান।
‘আমি থেমে থাকব না’
ফেসবুক লাইভে ক্ষতিগ্রস্ত স্টুডিও দেখিয়ে সালমান মুক্তাদির বলেন, ‘আমাদের স্টুডিও ডিস্ট্রয় হয়ে গেছে।’
হামলার পরও কাজ চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি থেমে থাকব না। আমি আমার প্যাশন চালিয়ে যাব। দেশ থেকে না হলে দেশের বাইরে থেকে চালিয়ে যাব।’
হামলার ঘটনায় মামলা করার কথাও জানিয়েছেন সালমান মুক্তাদির। তবে মামলার ধরন, ক্ষয়ক্ষতির সুনির্দিষ্ট পরিমাণ এবং হামলাকারীদের পরিচয় সম্পর্কে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি।
স্টুডিওতে হামলার ঘটনার সঙ্গে শাহ আলী থানার ওসিকে প্রত্যাহারের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, সে বিষয়ে ডিএমপির অফিস আদেশে কিছু উল্লেখ করা হয়নি।
আরএস-রাসেল
No comments yet. Be the first to comment!