শিক্ষা

প্রাথমিক শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ আড়াই থেকে তিন বছর করার পরিকল্পনা

আপডেট: অক্টো ১৪, ২০২৬ : ০৫:২৯ এএম ৭ ০
প্রাথমিক শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ আড়াই থেকে তিন বছর করার পরিকল্পনা

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা বাড়াতে প্রশিক্ষণের মেয়াদ আড়াই থেকে তিন বছর করার পরিকল্পনা করছে সরকার। একই সঙ্গে প্রাথমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের (পিটিআই) প্রশিক্ষণ দেওয়ার সক্ষমতা ছয় গুণ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বর্তমানে বছরে প্রায় ৭ হাজার শিক্ষককে প্রশিক্ষণ দেওয়ার সক্ষমতা থাকলেও তা বাড়িয়ে ৪২ হাজারে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

সম্প্রতি সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থাকে (বাসস) দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব পরিকল্পনার কথা জানান প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।

তিনি বলেন, প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষকদের আধুনিক শিখনপদ্ধতিতে দক্ষ করে তোলার জন্য প্রশিক্ষণের নতুন কাঠামো তৈরি করা হচ্ছে। এ ছাড়া শিক্ষক নিয়োগ ও পদোন্নতি, শ্রেণিকক্ষে প্রযুক্তির ব্যবহার এবং শিক্ষার্থীদের পুষ্টি নিশ্চিত করতে দুপুরের খাবার কর্মসূচি সম্প্রসারণের পরিকল্পনাও রয়েছে।

প্রথমে দুই মাস পিটিআইতে প্রশিক্ষণ

নতুন প্রশিক্ষণ কাঠামো অনুযায়ী, নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকেরা প্রথমে পিটিআইতে দুই মাস আবাসিক প্রশিক্ষণ নেবেন। এরপর বিদ্যালয়ে ফিরে পাঠদানের পাশাপাশি নির্ধারিত মডিউল অনুযায়ী প্রশিক্ষণের বাকি অংশ ও পরীক্ষাগুলো সম্পন্ন করবেন। পুরো প্রক্রিয়া আড়াই থেকে তিন বছরের মধ্যে শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী জানান, বর্তমানে এক বছর মেয়াদি শিক্ষক প্রশিক্ষণের জন্য নতুন মডিউল তৈরির কাজ চূড়ান্ত করেছে জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি (নেপ)। নতুন নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকদের ব্যাচগুলো এই মডিউল অনুযায়ী প্রশিক্ষণ পাবে। প্রথম দুই মাসের প্রশিক্ষণের পর বাকি ১০ মাসের প্রশিক্ষণ অনলাইন ও অফলাইনে সম্পন্ন করতে হবে।

প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সম্প্রসারণে পিটিআইয়ের পাশাপাশি সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা বিভাগকেও যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। কিন্ডারগার্টেন ও বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদেরও মানসম্মত প্রশিক্ষণের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

ববি হাজ্জাজ বলেন, ‘নীতিগতভাবে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি—কোনো শিক্ষক উপযুক্ত প্রশিক্ষণ না নিয়ে ক্লাসরুমে স্থায়ীভাবে পাঠদানে নিয়োজিত থাকতে পারবেন না।’

আগামী বছর সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মিড-ডে মিল

শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে উপস্থিতি বাড়ানো এবং পুষ্টি নিশ্চিত করতে আগামী ২০২৭ সালের মধ্যে দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দুপুরের খাবার বা ‘মিড-ডে মিল’ কর্মসূচি চালুর লক্ষ্য রয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী জানান, বর্তমানে দেশের ১৫০টি উপজেলায় এ কর্মসূচি চালু রয়েছে। বাকি উপজেলাগুলোতে কর্মসূচির আওতা বাড়াতে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব তৈরির কাজ চলছে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, ২০২৭ সালের মধ্যেই দেশের প্রতিটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সব শিক্ষার্থীর জন্য পুষ্টিকর দুপুরের খাবার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

শিক্ষকদের হাতে ট্যাব, দুর্গম বিদ্যালয়ে সৌরবিদ্যুৎ

শিক্ষকদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা বাড়াতে ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ এবং ‘স্মার্ট ক্লাসরুম’ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, এটি শুধু শিক্ষকদের হাতে ডিজিটাল যন্ত্র তুলে দেওয়ার প্রকল্প নয়; বরং শ্রেণিকক্ষের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ।

গুগলসহ আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর সহযোগিতায় এ ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। এর অংশ হিসেবে শিক্ষকদের হাতে ট্যাব দেওয়া হবে।

যেসব দুর্গম এলাকার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিদ্যুৎ নেই, সেসব প্রতিষ্ঠানে বিদ্যুৎ বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে সৌরবিদ্যুতের প্যানেল স্থাপন ও ইন্টারনেট সংযোগ নিশ্চিত করার কাজ চলছে বলেও জানান তিনি।

শূন্য পদে প্রধান শিক্ষক পদোন্নতির উদ্যোগ

দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে প্রায় ৩৬ হাজার ৯৬০টি প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। আদালতের রায়ের পর প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতির আইনি প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। এখন রায়ের চূড়ান্ত সত্যায়িত অনুলিপির অপেক্ষা রয়েছে।

ববি হাজ্জাজ বলেন, এ বিষয়ে সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সঙ্গে আলোচনা শুরু হয়েছে। চূড়ান্ত অনুলিপি পাওয়ার পর প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতির কার্যক্রম দ্রুত শুরু হবে। এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে সহকারী শিক্ষক নিয়োগের পথও উন্মুক্ত হবে। তখন বিপুলসংখ্যক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হবে।

পাঠ্যবইয়ের চাপ কমানোর উদ্যোগ

শিক্ষার্থীদের ওপর থেকে অতিরিক্ত বইয়ের চাপ কমিয়ে আনন্দদায়ক শিক্ষার পরিবেশ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গল্প বলার মাধ্যমে শেখানো এবং গণিত ও বিজ্ঞান অলিম্পিয়াডের মতো কার্যক্রম পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করতে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডকে (এনসিটিবি) প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।

এ ছাড়া হাওর, চর ও দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলে শিক্ষকদের কাজের প্রতি উৎসাহ বাড়াতে বিশেষ ভাতা দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে সরকার। এসব এলাকার শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের সমস্যা কমাতে প্রয়োজনে আবাসিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিষয়টিও সরকারের নীতিগত ভাবনায় রয়েছে।

আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!