খেলাধুলা

বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি বিদ্বেষের শিকার আর্জেন্টিনা, তালিকায় স্পেন-ব্রাজিলও

আপডেট: অক্টো ১০, ২০২৬ : ০৬:২২ এএম ৫ ০
বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি বিদ্বেষের শিকার আর্জেন্টিনা, তালিকায় স্পেন-ব্রাজিলও

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘৃণা ও বিদ্বেষমূলক মন্তব্যের সবচেয়ে বেশি শিকার হয়েছে আর্জেন্টিনা। এরপর রয়েছে ইংল্যান্ড, স্পেন, ব্রাজিল ও নরওয়ে। ফিফার এক গবেষণা প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। ২০২৬ বিশ্বকাপ ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত কোটি কোটি পোস্ট ও মন্তব্য বিশ্লেষণ করে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।

বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস উপলক্ষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সুরক্ষা পরিষেবা (এসএমপিএস) এ গবেষণা পরিচালনা করে। ২০২৬ সালের ৯ জুন থেকে ২০ জুলাই পর্যন্ত এক্স, ইনস্টাগ্রাম, ফেসবুক ও টিকটকে প্রকাশিত ১ কোটি ৭১ লাখের বেশি পোস্ট ও মন্তব্য বিশ্লেষণ করা হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, আর্জেন্টিনাকে ঘিরে বিদ্বেষমূলক মন্তব্যের বড় অংশজুড়ে ছিল দলটির কোচ লিওনেল স্কালোনি ও রেফারিদের কাছ থেকে অন্যায্য সুবিধা পাওয়ার অভিযোগ। এসব মন্তব্যের মধ্যে বিদেশি-বিদ্বেষমূলক বক্তব্যও ছিল।

খেলোয়াড়দের আক্রমণে বর্ণবাদ বেশি

ব্যক্তিগতভাবে অনলাইনে আক্রমণের শিকার খেলোয়াড়দের তালিকায় আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের অবস্থান চতুর্থ। এ ক্ষেত্রে তাদের আগে রয়েছে ফ্রান্স, ইংল্যান্ড ও পর্তুগালের খেলোয়াড়েরা।

খেলোয়াড়দের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে বর্ণবাদী আক্রমণ। বিশেষ করে আফ্রিকান বংশোদ্ভূত কয়েকজন খেলোয়াড়কে লক্ষ্য করে ঘৃণা ও বৈষম্যমূলক মন্তব্য করা হয়েছে।

টুর্নামেন্টে সবচেয়ে বেশি অনলাইন হয়রানির শিকার ব্যক্তির পরিচয় প্রকাশ করেনি ফিফা। তবে ওই ব্যক্তি বর্ণবাদ, সমকামিতাবিদ্বেষ, নারীবিদ্বেষ ও ট্রান্সজেন্ডার-বিদ্বেষমূলক আক্রমণের শিকার হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিদেশি-বিদ্বেষমূলক আক্রমণের প্রধান লক্ষ্য ছিল দক্ষিণ আফ্রিকা, আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড। এসব মন্তব্যে অভিবাসন, জাতীয় পরিচয় এবং দলে খেলোয়াড়দের অন্তর্ভুক্তির মতো বিষয় উঠে এসেছে।

বর্ণবাদী মন্তব্যে আর্জেন্টাইন সমর্থকেরা এগিয়ে

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্ণবাদী বার্তা প্রকাশের ক্ষেত্রে আর্জেন্টিনার সমর্থকেরা সবচেয়ে এগিয়ে ছিলেন। তবে অঞ্চলভিত্তিক হিসাবে সাধারণ ধরনের অনলাইন আক্রমণ সবচেয়ে বেশি এসেছে ইউরোপ থেকে। এরপর রয়েছে দক্ষিণ আমেরিকা।

সবচেয়ে গুরুতর হুমকির লক্ষ্যবস্তু ছিলেন ম্যাচ পরিচালনাকারী রেফারিরা। তাঁদের ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ করে হয়রানি করার চেষ্টা, যা ‘ডক্সিং’ নামে পরিচিত, এমন ঘটনাও ঘটেছে। রেফারিদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও ম্যাচ পাতানোর সন্দেহ থেকে এসব আক্রমণের সূত্রপাত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

৮১২ জন খেলোয়াড়, কোচ ও কর্মকর্তা হয়রানির শিকার

ফিফা জানিয়েছে, ২০২৬ বিশ্বকাপে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সুরক্ষা পরিষেবার নজরদারিতে থাকা ১ হাজার ৬০৬ জন খেলোয়াড়, কোচ ও কর্মকর্তার অর্ধেকের বেশি অনলাইনে অপব্যবহার ও হয়রানির শিকার হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ৮১২ জন অন্তত একটি আপত্তিকর বা হয়রানিমূলক বার্তা পেয়েছেন।

সব ধরনের বৈষম্যমূলক আক্রমণের মধ্যে বর্ণবাদী বার্তার হার ছিল সবচেয়ে বেশি। এ ধরনের বার্তার ১২ শতাংশ ছিল বর্ণবাদী। সবচেয়ে বেশি লক্ষ্যবস্তু হওয়া ব্যক্তিকে নিয়ে ১০ হাজারের বেশি আপত্তিকর পোস্ট প্রকাশ করা হয়েছে, যার ৪০ শতাংশই ছিল বর্ণবাদী।

এসএমপিএসের বিশ্লেষণে ১ কোটি ৭১ লাখের বেশি পোস্ট ও মন্তব্যের মধ্যে প্রায় ২ লাখ ৪০ হাজারকে যাচাই-বাছাইয়ের পর আপত্তিকর হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এ ছাড়া ২ হাজার ৯০৫টি অ্যাকাউন্টের বিষয়ে তদন্তের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাছে পর্যালোচনার জন্য পাঠানো হয়েছে ৭৮৬টি অ্যাকাউন্টের তথ্য।

ফিফা ও সদস্য সংস্থাগুলোর আনুষ্ঠানিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম চ্যানেলে প্রকাশিত ৬ কোটি ৭ লাখ মন্তব্যও পর্যবেক্ষণ করেছে এসএমপিএসের মডারেশন ব্যবস্থা। এর মধ্যে স্প্যামসহ ৯২ লাখ মন্তব্য আড়াল করে দেওয়া হয়েছে।

আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!